শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

স্ত্রীর কোনো অঙ্গকে তালাক বললে কি তালাক কার্যকর হয়

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ০৫:০০ পিএম

স্ত্রীর কোনো অঙ্গকে তালাক বললে কি তালাক কার্যকর হয়

ছবি: দিনাজপুর টিভি

স্ত্রীর কোনো নির্দিষ্ট অঙ্গকে তালাক বললে বৈবাহিক সম্পর্কে তালাক কার্যকর হবে কি না, তা মূলত নির্ভর করে ওই অঙ্গ দ্বারা পুরো শরীর বোঝানো হয় কি না এবং সংশ্লিষ্ট সমাজে প্রচলিত ভাষার ব্যবহারের ওপর। রাজধানীর মোহাম্মদপুর সাত মসজিদ জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার ফতোয়া বিভাগের নায়েবে মুফতি তাওহীদুল ইসলাম এ বিষয়ে শরিয়াহর বিধান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।

তিনি জানান, যেসব অঙ্গ দ্বারা পুরো শরীর বোঝানো হয় না, সে ধরনের অঙ্গের সঙ্গে তালাকের শব্দ যুক্ত করলে তালাক পতিত হয় না। যেমন হাত, পা, আঙুল, জিহ্বা, ঠোঁট, কান কিংবা নাক দিয়ে সাধারণত পুরো মানবশরীরকে নির্দেশ করা হয় না। ফলে কোনো ব্যক্তি যদি স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন যে তোমার হাত তালাক, তোমার পা তালাক কিংবা তোমার ঠোঁট তালাক, তবে কেবল এই কথা উচ্চারণের কারণে কোনো তালাক কার্যকর হবে না।

বিপরীতভাবে, যে অঙ্গ দ্বারা স্বাভাবিকভাবে পুরো শরীরকে বোঝানো হয়, তেমন অঙ্গকে তালাকের সঙ্গে যুক্ত করলে তালাক পতিত হয়ে যায়। মুফতি তাওহীদুল ইসলাম স্পষ্ট করেন যে মাথা বা সরাসরি শরীর এমন অঙ্গ, যা দ্বারা পুরো সত্তাকে নির্দেশ করা হয়। ফলে কেউ যদি স্ত্রীকে বলেন তোমার মাথা তালাক অথবা তোমার শরীর তালাক, তবে এ কথার দ্বারা তালাক পতিত হয়ে যাবে।

কোনো সমাজে বা স্থানীয় প্রচলিত ভাষায় যদি বিশেষ কোনো অঙ্গ দ্বারা পুরো শরীর বোঝানোর সামাজিক প্রচলন থাকে, তবে সেই সামাজিক রীতি বা উরফের আলোকেই তালাকের শরয়ি হুকুম নির্ধারিত হবে। জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার ফতোয়া বিভাগে এক ব্যক্তি লিখিতভাবে জানান যে তিনি নতুন বিয়ে করেছেন। স্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে গিয়ে দুষ্টামির ছলে তিনি স্ত্রীকে বলেন তোমার ঠোঁটকে তিনবার তালাক। পরবর্তীতে এই উচ্চারণ নিয়ে তিনি গভীর ভয় ও মানসিক কষ্টে ভুগছেন বলে জানান।

এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে মুফতি তাওহীদুল ইসলাম সমাধান দিয়ে বলেন, প্রশ্নে বর্ণিত ক্ষেত্রে ওই ব্যক্তি দুষ্টামি করে স্ত্রীর ঠোঁটকে উদ্দেশ্য করে তালাক শব্দটি উচ্চারণ করেছেন। ঠোঁট এমন কোনো অঙ্গ নয় যা দ্বারা পুরো শরীর নির্দেশিত হয়। ফলে প্রতিষ্ঠিত মূলনীতি অনুসারে এখানে কোনো তালাক পতিত হয়নি এবং এ নিয়ে অতিরিক্ত ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। তালাক শব্দটি নিয়ে যেকোনো ধরনের দুষ্টামি, ক্ষোভ, ধমক বা ভয় দেখানোর মতো আচরণ থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার কঠোর তাগিদ দেন তিনি। 

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে সরাসরি তালাকের শব্দ উচ্চারণ করলে তা কার্যকর হয়ে যায়। দুষ্টামি, রাগ বা ভয় দেখানোর অজুহাত দেখিয়ে তালাক থেকে রেহাই পাওয়া যায় না এবং শরীর তালাকের ক্ষেত্রে ব্যক্তির অন্তরের নিয়ত থাকাও জরুরি নয়। ভবিষ্যতে বৈবাহিক জীবনে যেকোনো ধরনের দুষ্টামি, রাগ, ধমক কিংবা ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে তালাকের শব্দ ব্যবহার করা থেকে সব স্বামীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।