শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

কঠিন সময়ে আল্লাহর সাহায্য লাভের বিশেষ আমলসমূহ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ১০:৪৪ এএম

কঠিন সময়ে আল্লাহর সাহায্য লাভের বিশেষ আমলসমূহ

ছবি: Ai

জীবনের কঠিন পরিস্থিতি, দুশ্চিন্তা কিংবা যেকোনো বিপদের মুখে হতাশ না হয়ে সৃষ্টিকর্তার ওপর পূর্ণ ভরসা রাখার নির্দেশ দিয়েছে ইসলাম। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে সংকটময় মুহূর্ত অতিক্রম করার জন্য সুনির্দিষ্ট আমল ও দোয়ার দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পার্থিব বা আত্মিক যেকোনো উদ্যোগে প্রকৃত সফলতা অর্জনের জন্য আল্লাহর সাহায্য অপরিহার্য। এই কারণে কঠিন সময়ে সালাত, ধৈর্য, একনিষ্ঠ দোয়া, তওবা এবং ইস্তিগফারের মাধ্যমে আল্লাহর দিকে ফিরে আসাই মুমিনের অন্যতম মূল কর্তব্য।

বিপদে আল্লাহর রহমত ও আশ্রয় কামনাই আত্মিক শক্তির মূল ভিত্তি। কঠিন বিপদে পরিত্রাণ পেতে দোয়া ইউনুস পাঠের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। মাছের পেটে বন্দি থাকা অবস্থায় হজরত ইউনুস আলাইহিস সালাম আল্লাহর কাছে কাতর কণ্ঠে এই দোয়া করেছিলেন। দোয়ার মূল অর্থ হলো, আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, আপনি পবিত্র এবং নিশ্চয়ই আমি অবিচারকারীদের অন্তর্ভুক্ত। এই দোয়ার মাধ্যমে একদিকে যেমন মহান আল্লাহর নিরঙ্কুশ একত্ববাদ ঘোষণা করা হয়, তেমনি বান্দা নিজের ভুল স্বীকার করে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করে।

সংকটকালীন সময়ে আল্লাহর ঐশী সাহায্য লাভের সবচেয়ে বড় মাধ্যম হলো নামাজ ও ধৈর্য। সূরা আল-বাকারার ৪৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো; নিশ্চয়ই বিনয়ী মানুষ ছাড়া অন্যদের জন্য এটি অত্যন্ত কঠিন বিষয়। তাই যেকোনো বৈরী পরিস্থিতিতে নামাজ পরিত্যাগ না করে অটল ধৈর্যের সঙ্গে আল্লাহর সাহায্য কামনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে সব ধরনের অহংকার ও পার্থিব নির্ভরতা বর্জন করে একমাত্র আল্লাহর কাছেই সার্বক্ষণিক সাহায্য চাইতে হবে। পবিত্র কোরআনের সূরা আল-ফাতিহার ৫ নম্বর আয়াতে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং একমাত্র আপনার কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি।

নিয়মিত তওবা ও ইস্তিগফার করাও মুমিনের অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার। সূরা নূহের ১০ ও ১১ নম্বর আয়াতে হজরত নূহ আলাইহিস সালামের আহ্বান তুলে ধরে বলা হয়েছে, তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল এবং তিনি তোমাদের জন্য আকাশ থেকে মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। এই নির্দেশনার আলোকে পাপমোচনে বেশি বেশি ইস্তিগফার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এর পাশাপাশি আল্লাহর দ্বীনের সহায়তায় আত্মনিয়োগ করা এবং সৎকাজে উৎসাহ ও অন্যায় প্রতিরোধে ভূমিকা রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। সূরা মুহাম্মাদের ৭ নম্বর আয়াতে ঘোষণা করা হয়েছে, হে মুমিনগণ, যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য করো, তবে তিনিও তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের অবস্থানকে সুদৃঢ় রাখবেন। সংকটকালে হতাশা কাটিয়ে নামাজ, তওবা ও সৎকাজের অনুশীলনেই নিহিত রয়েছে উত্তরণের পথ।