শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
নিত্যপণ্যের বাজার পরিস্থিতি

বাজারে আটা ও ময়দার দাম বাড়ায় চাপে ক্রেতারা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ১০:৫৫ এএম

বাজারে আটা ও ময়দার দাম বাড়ায় চাপে ক্রেতারা

বেড়েছে আটা ও ময়দার দাম

রাজধানীর খুচরা বাজারে নতুন করে বেড়েছে আটা ও ময়দার দাম। একই সঙ্গে চড়া মূল্যে বিক্রি হচ্ছে ব্রয়লার মুরগি, ফার্মের ডিম এবং বিভিন্ন জাতের মাছ। তবে অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে সবজির বাজার। বৃহস্পতিবার মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ও মগবাজার কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এই চিত্র পাওয়া গেছে। পাইকারি পর্যায়ে সরবরাহ কমায় খাদ্যপণ্যের খুচরা বাজারে চাপ বেড়েছে।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ বা টিসিবির দৈনন্দিন বাজারদরের তালিকাতেও আটা ও ময়দার দাম বাড়ার প্রমাণ মিলেছে। সংস্থাটির হিসাবে গত এক মাসে খোলা আটার দাম কেজিতে তিন টাকা এবং খোলা ও মোড়কজাত ময়দার দর কেজিতে পাঁচ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে খুচরা দোকানে মূল্যবৃদ্ধির হার আরও বেশি। রাজধানীর বিভিন্ন মুদি দোকানে প্রতি কেজি খোলা আটা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়, যা এক মাস আগে ছিল ৪৫ টাকা। খোলা ময়দার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়, যেখানে মাসখানেক আগে দাম ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা।

প্যাকেটজাত আটা ও ময়দার বাজারেও একই ধরনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। বর্তমানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দুই কেজির এক প্যাকেট ময়দা বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায়, যার ফলে প্রতি কেজির দাম পড়ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা। এক মাস আগেও এক কেজি মোড়কজাত ময়দার দর ছিল ৭০ থেকে ৭৫ টাকা। মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের একজন মুদিদোকানি জানান, আগে পঞ্চাশ কেজির এক বস্তা ময়দা দুই হাজার ৫০০ টাকায় কেনা যেত, কিন্তু গত সপ্তাহে পাইকারি ও ডিলার পর্যায়ে দাম বেড়ে তা দুই হাজার ৮০০ টাকায় ঠেকেছে। কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সামাল দিতে সম্প্রতি ব্যবসায়ীরা বেকারি পণ্যের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিলেও বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর খরচ যাচাইয়ের স্বার্থে রুটি ও বিস্কুটের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।

আমিষের বাজারে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দামও এখনো সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়, যা দেড় মাস আগেও প্রায় ২০ টাকা কমে বিক্রি হয়েছে। এর আগে এই দর ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় নেমে এসেছিল। বর্তমানে ফার্মের বাদামি রঙের ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায় এবং সাদা রঙের ডিম মিলছে প্রায় ১০ টাকা কমে। সোনালি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকা এবং হাইব্রিড বা কালারবার্ড সোনালি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকায়। সাম্প্রতিক বন্যা, অতিবৃষ্টি ও তীব্র গরমের কারণে খামারে মুরগি ও ডিমের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় এই সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন খামারি ও ব্যবসায়ীরা।

মাছের বাজারে আড়াই থেকে তিন কেজি ওজনের রুই বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৪০০ থেকে ৪২০ টাকায় এবং সমপরিমাণ কাতল মাছ বিক্রি হচ্ছে ৪২০ থেকে ৪৪০ টাকায়। আকারভেদে প্রতি কেজি চাষের পাঙাশ ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা এবং পাবদা মাছ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়। তবে সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় অন্যান্য পণ্যের মতো এতে নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি হয়নি।