সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ০৯:৪৮ পিএম
বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় উৎপাদনে ফেরাতে ২০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই স্কিমের আওতায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে ঋণ নিতে পারবেন। উদ্যোক্তাদের জন্য রাখা হয়েছে ছয় মাসের রেয়াতকাল।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে ‘বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন স্কিম’ শিরোনামে এই সংক্রান্ত নীতিমালা জারি করা হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ৪ শতাংশ সুদে এই তহবিল থেকে অর্থ জোগান দেবে। তবে তহবিল গ্রহণের পর প্রথম ছয় মাস ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে কোনো সুদ দিতে হবে না। এই রেয়াতকাল বা গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর থেকে প্রতি ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে সুদ পরিশোধ করতে হবে, যার মধ্যে প্রথম দুই প্রান্তিকের বকেয়া সুদও সমন্বয় করা হবে।
গ্রাহক পর্যায়ে বিতরণ করা ঋণের ক্ষেত্রেও ঋণগ্রহীতারা একই ধরনের রেয়াত সুবিধা পাবেন। অর্থাৎ ঋণ ছাড়ের প্রথম ছয় মাস কোনো উদ্যোক্তার কাছ থেকে সুদ আদায় করতে পারবে না ব্যাংকগুলো। গ্রেস পিরিয়ড অতিক্রান্ত হওয়ার পর সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ হারে নিয়মিত সুদের পাশাপাশি প্রথম দুই প্রান্তিকের বকেয়া সুদ আদায় শুরু হবে। তহবিলের প্রাপ্যতা থাকা সাপেক্ষে স্কিমটি চালুর তিন বছরের মধ্যে যেকোনো সময় আগ্রহী বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো প্রাক-অর্থায়নের জন্য আবেদন জানাতে পারবে।
ঋণের অর্থ যাতে কেবল বন্ধ কারখানা চালু এবং নির্ধারিত খাতেই ব্যয় হয়, তা কঠোরভাবে তদারকি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ব্যাংকগুলোকে। একইসঙ্গে ঋণ আদায় পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে গ্রেস পিরিয়ড শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে হিসাব নিষ্পত্তি করতে হবে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে জারি করা এই নির্দেশনা অবিলম্বে সারা দেশে কার্যকর হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন