বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

‍‍`অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে‍‍` প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ০৯:৩৮ পিএম

‍‍`অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে‍‍`  প্রতিমন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি

জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা ও নিরাপদ আমিষ উৎপাদন নিশ্চিত করতে পোল্ট্রি এবং প্রাণিসম্পদ খাতে অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি উল্লেখ করেন, উৎপাদনে অযাচিত ওষুধের ব্যবহার যেমন খাদ্য সুরক্ষাকে চরম ঝুঁকিতে ফেলে, তেমনই তা খামারিদের উৎপাদন খরচও বাড়িয়ে দেয়। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে গাজীপুর সদরের পিটিআই মিলনায়তনে মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য আইন, ২০১০ বাস্তবায়ন এবং মান নিয়ন্ত্রণ জোরদারকরণ বিষয়ক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নিরাপদ প্রাণিজ আমিষের সরবরাহ নিশ্চিতে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ দেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, খামারিদের টিকে থাকা এবং সাধারণ মানুষের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে নিরাপদ প্রোটিন পৌঁছে দিতে হলে খাদ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান, খামারি এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে একযোগে কাজ করতে হবে। দেশের পোল্ট্রি খাতের মূল ভিত্তি হলো প্রান্তিক খামারিরা। এই উদ্যোক্তাদের উৎপাদন কর্মকাণ্ড সহজ করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খামারিদের কৃষক কার্ড ব্যবস্থার আওতায় এনেছেন। এর ফলে সাধারণ কৃষকদের মতো প্রাণিসম্পদের খামারিরাও এখন থেকে সহজ শর্তে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ, সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সুবিধা এবং সরকারি প্রণোদনার আওতাভুক্ত হচ্ছেন।

খামারিদের ওষুধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতন করতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রতিমন্ত্রী জানান, সঠিক নিয়মে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে খামার পরিচালনা করলে উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন, দেশে পোল্ট্রি খাতের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং ইতিমধ্যে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে হ্যাচিং ডিম রপ্তানি শুরু হয়েছে। অভ্যন্তরীণ পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে মানসম্মত প্রাণিজ পণ্য রপ্তানি বাড়াতে সরকার সমন্বিত কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে।

গ্রামীণ অর্থনীতিকে মজবুত করতে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টির ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ে উদ্যোগ বাড়লে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে তিনি ভেজাল খাদ্য এবং মাদকের বিস্তার রোধে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীকে কঠোর নজরদারি বজায় রাখার নির্দেশ দেন।

কর্মশালায় উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি গাজীপুরে ঘোড়ার মাংস বিক্রির যে অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক দৃষ্টি রাখছে। যেকোনো ধরনের অনিয়ম ও প্রতারণা রোধে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে যৌথভাবে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গাজীপুর জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. শাকিল আহমেদ, পুলিশ সুপার মো. জসীম উদ্দিন এবং বাংলাদেশ ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অধিদপ্তরের পরিচালক ড. বেগম শামছুননাহার আহম্মদ এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সদর উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. এস. এম. হারুন-অর-রশিদ।