বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

রুশ তেলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বিলে ভারতের নতুন সতর্কতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ০৯:৩৬ পিএম

রুশ তেলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বিলে ভারতের নতুন সতর্কতা

ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার জ্বালানি খাতের ওপর কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত একটি নতুন বিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়ার পর নিজেদের বাণিজ্য ও কৌশলগত স্বার্থ সুরক্ষার ঘোষণা দিয়েছে ভারত। একই সঙ্গে দেশের ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অপরিশোধিত তেল আমদানির উৎস বহুমুখী করার নীতি অব্যাহত রাখার স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছে নয়াদিল্লি। পরিস্থিতির ওপর সতর্ক নজর রাখছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বুধবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ শীর্ষক বিলটি ২৬২-১৫৯ ভোটে পাস হয়। এর আগে মার্কিন সিনেটেও বিলটি সর্বসম্মতভাবে অনুমোদিত হয়। বর্তমানে বিলটি চূড়ান্ত আইনে পরিণত হওয়ার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে। এই খসড়া আইনে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর যেকোনো পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ একশত শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর ক্ষমতা মার্কিন প্রশাসনের হাতে অর্পণ করা হয়েছে, যার ফলে বড় ক্রেতা হিসেবে ভারত ও চীন সরাসরি চাপের মুখে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

তবে ভারতীয় পণ্যের ওপর এই শাস্তিমূলক শুল্ক এখনই কার্যকর হচ্ছে না, কারণ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে ন্যস্ত থাকবে। এমন পরিস্থিতিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বৈশ্বিক বাজারের অস্থিতিশীলতার মধ্যেও নাগরিকদের নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি প্রাপ্তি নিশ্চিত করাই সরকারের মূল অগ্রাধিকার। এই লক্ষ্য পূরণে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তেল সংগ্রহের চলমান বহুমুখীকরণ নীতি ভবিষ্যতেও অক্ষুণ্ণ রাখা হবে।

রাশিয়ার সঙ্গে তেল বাণিজ্যের সম্ভাব্য জটিলতা নিয়ে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারকদের সাথে উচ্চপর্যায়ে নিয়মিত আলোচনা চালিয়েছে ভারত। বিশ্ব জ্বালানি বাজার এবং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভারসাম্যের বিষয়টি ওয়াশিংটনের কাছে তুলে ধরার কথা জানিয়ে নয়াদিল্লি উল্লেখ করেছে, নিজেদের অর্থনৈতিক ক্ষতি এড়াতে প্রয়োজনীয় সব প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশটির বাণিজ্য ও শিল্প খাতের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে সরকার।

সমুদ্রপথে পরিবাহিত রুশ অপরিশোধিত তেলের অন্যতম শীর্ষ ক্রেতা হওয়ায় নতুন এই মার্কিন আইন ভারতের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যয়ে চাপ তৈরি করতে পারে। তবে সম্ভাব্য এই সংকট এড়াতে ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলো রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, কানাডা, ভেনেজুয়েলা এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি বৃদ্ধি করতে শুরু করেছে। প্রস্তাবিত মার্কিন বিলটিতে রাশিয়ার শীর্ষ কর্মকর্তা, আর্থিক ব্যাংক ও মস্কোকে সামরিক সহায়তাকারী বিদেশি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি রাশিয়ার তেল পরিবহনে ব্যবহৃত তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা গোপন নৌবহরের জাহাজগুলোর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞার স্পষ্ট বিধান রাখা হয়েছে।