বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

মক্কা চুক্তি বাস্তবায়নের সময় এসেছে: পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম

মক্কা চুক্তি বাস্তবায়নের সময় এসেছে: পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি

পবিত্র নগরী মক্কার উপকণ্ঠে ড্রোন হামলার চেষ্টার প্রেক্ষাপটে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যকার ঐতিহাসিক ‘মক্কা চুক্তি’ বাস্তবায়নের সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। পাকিস্তানের গণমাধ্যম জিও নিউজের নিয়মিত রাজনৈতিক আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, এই চুক্তি পাকিস্তানের ওপর পরিপূর্ণভাবে প্রযোজ্য এবং রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তান তার দায়িত্ব পালন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বুধবার রাতে দেওয়া এই বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, কৌশলগত সামরিক পরিকল্পনার বিস্তারিত জনসমক্ষে প্রকাশ করা সম্ভব না হলেও চুক্তির শর্ত পূরণে ইসলামাবাদের কোনো দ্বিধা নেই।

পবিত্র ভূমির নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো চুক্তির বাধ্যবাধকতার প্রয়োজন পড়ে না বলে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি। খাজা আসিফ বলেন, যদি কখনো মক্কার ওপর সরাসরি আঘাত আসে, তবে তা প্রতিহত করতে কোনো আনুষ্ঠানিক দলিলের দরকার হয় না; চুক্তি না থাকলেও পবিত্র স্থান রক্ষা করা প্রতিটি মুসলমান রাষ্ট্রের মতো পাকিস্তানেরও প্রধান দায়িত্ব। তিনি ব্যাখ্যা করেন, বিদ্যমান যৌথ প্রতিরক্ষা কাঠামোয় যুক্ত যেকোনো দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌম সীমান্ত লঙ্ঘিত হলে পারস্পরিক প্রতিরক্ষার সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে এবং এই নীতির প্রয়োগ নিয়ে কোনো অস্পষ্টতা নেই। এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী মক্কার দক্ষিণ প্রান্তে আকাশসীমা লঙ্ঘনের আগেই একটি সামরিক ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি জানায়, যা তাদের মতে পবিত্র নগরীকে লক্ষ্য করে চালানো দ্বিতীয় অপচেষ্টা।

তবে পবিত্র স্থানকে নিশানা করার সৌদি দাবি পুরোপুরি অস্বীকার করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। গোষ্ঠীর সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুধুমাত্র সৌদি আরবের দূরবর্তী সামরিক ঘাঁটি ও তেল স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধেই পরিচালিত হয়, যা পবিত্র স্থানগুলো থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থিত। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ রিয়াদের প্রতি সর্বাত্মক সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে জানিয়েছেন, যেকোনো আগ্রাসনের মুখে ইসলামাবাদ সৌদি আরবের পাশে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অবস্থান নেবে। একই সাথে তিনি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাত এড়াতে সব পক্ষকে সর্বোচ্চ ধৈর্য ধারণ এবং কূটনীতির পথে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানান।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরবের বিশেষ বার্তা তেহরানের কাছে পৌঁছে দিয়েছে পাকিস্তান। প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, সামগ্রিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে রাষ্ট্র হিসেবে ইরান এই মুহূর্তে নতুন কোনো যুদ্ধক্ষেত্র খুলে হুথিদের সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা করবে বলে তিনি মনে করেন না। তিনি মন্তব্য করেন, আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রযন্ত্র এবং অনানুষ্ঠানিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কাজের ধরন আলাদা হওয়ায় এসব গোষ্ঠী প্রায়ই রাষ্ট্রের অনুমোদন ছাড়াই নিজস্ব তৎপরতা চালায়।

আঞ্চলিক উত্তেজনা যাতে নতুন কোনো রণাঙ্গনে রূপ না নেয়, সে লক্ষ্যে পাকিস্তান কূটনৈতিকভাবে কাজ করে যাবে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।