বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

আসিফ মাহমুদের সম্পদ অনুসন্ধানে বিএফআইইউকে চিঠি দুদকের

জাতীয় ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম

আসিফ মাহমুদের সম্পদ অনুসন্ধানে বিএফআইইউকে চিঠি দুদকের

সংগৃহীত ছবি

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং তার স্ত্রীর দেশ-বিদেশের যাবতীয় ব্যাংক হিসাব, সম্পদ ও আর্থিক লেনদেনের রেকর্ড তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। অভিযোগ অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা ও দুদকের উপপরিচালক মো. জাহেদ কালামের সই করা এক চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের কাছে এসব বিস্তারিত নথি চাওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট দুদকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা এই আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সাবেক এই উপদেষ্টার বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়মের তদন্ত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিস্তৃত করা হয়েছে। কমিশনের পাঠানো চিঠিতে দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আসিফ মাহমুদ ও তার স্ত্রীর নামে থাকা সক্রিয়, নিষ্ক্রিয় এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া সব ধরনের অ্যাকাউন্টের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ সরবরাহ করতে বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের লেনদেন, ব্যাংকের সেফটি ডিপোজিট লকার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র, স্থায়ী আমানত, ডিপিএস এবং গৃহীত ঋণের যাবতীয় কাগজপত্র চেয়েছে দুদক। একই সাথে পর্তুগাল, অস্ট্রেলিয়া, দুবাই, সিঙ্গাপুর ও সুইজারল্যান্ডে কোনো জমি কেনা, অর্থপাচার কিংবা বেনামি শেল কোম্পানি গঠন করা হয়েছে কি না—তা সংশ্লিষ্ট বিদেশি আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাথে সমন্বয় করে নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন, বিদেশে অর্থ স্থানান্তর এবং বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণের প্রাথমিক অভিযোগ যাচাইয়ের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, অনুসন্ধানের নথিতে বিশ্বের পাঁচটি দেশে মোট ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের সুনির্দিষ্ট কিছু দাবির বিবরণ রয়েছে। এর মধ্যে দুবাইয়ে চার হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাঠিয়ে বিলাসবহুল ভিলা ক্রয় ও ব্যবসায় বিনিয়োগ, সিঙ্গাপুরে তিন হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় দুই হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে দেড় হাজার কোটি টাকা স্থানান্তরের পাশাপাশি দুর্নীতির অর্থে পর্তুগালে জমি ক্রয়ের বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং দেশের ৩৬টি জেলায় জেলা প্রশাসক পদায়নে দুই থেকে ১০ কোটি টাকা করে লেনদেনের অভিযোগ যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা দক্ষিণ, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের দরপত্র নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প থেকে কমিশন আদায়ের দাবিও কমিশনের বিবেচনায় রয়েছে।

এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি ও কেনাকাটায় দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক এই উপদেষ্টাসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে কমিশন। মো. জাহেদ কালামের নেতৃত্বে গঠিত বিশেষ দলের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় থেকে সংশ্লিষ্ট সময়ের যাবতীয় নিয়োগ ও পদোন্নতির নথিপত্র ইতোমধ্যে দুদক কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরবর্তীতে ১৩ সেপ্টেম্বর সিটি করপোরেশন ও পদায়ন বাণিজ্যের নতুন অভিযোগগুলো আগের অনুসন্ধানের সাথে সংযুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে এর আগে প্রতিবাদ জানিয়ে আসিফ মাহমুদ দাবি করেছিলেন যে বিদেশে তার কোনো অবৈধ অর্থ থাকলে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন। সামগ্রিক তথ্যানুসন্ধান শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নির্ধারিত হবে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে।