বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

জিনাইন কলার বাম্পার ফলন এক কাদিতে ৩০০ কলা

কৃষি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ০৯:৪৩ পিএম

জিনাইন কলার বাম্পার ফলন এক কাদিতে ৩০০ কলা

ছবি: সংগৃহীত

দেশের কৃষিখাতে নতুন সম্ভাবনা জাগিয়েছে টিস্যু কালচারের মাধ্যমে উৎপাদিত ‘জিনাইন’ জাতের কলা। ঢাকার ধামরাইয়ে এই জাতের কলার আবাদ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন এক কৃষক। প্রতিটি কলার কাদি মানুষের সমান উঁচু হচ্ছে, যার গড় উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি। একেকটি কাদিতেই ধরছে ২৫০ থেকে ৩০০ পিস কলা। ভারত থেকে আসা এই নতুন জাতটি বর্তমানে দেশের বিভিন্ন ল্যাবে টিস্যু কালচারের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হচ্ছে। সাধারণত মধুসাগর, নেপালি সাগর বা অমৃতসাগরের মতো স্থানীয় জাতগুলোতে ৯ থেকে ১০টি ছড়িতে ১৮০ থেকে ২০০ পিস কলা থাকে। 

কিন্তু জিনাইন জাতে ১৬ থেকে ১৭টি ছড়ি আসে, যা ফলন কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। কৃষি বিভাগের মাধ্যমে সাভার হর্টিকালচার থেকে মধুপুরের এই চারা সংগ্রহ করে ধামরাইয়ে রোপণ করা হয়েছিল। ধামরাইয়ের ওই উদ্যোক্তা জানান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সরাসরি তত্ত্বাবধানে তিনি এই বাগান শুরু করেন। চারা রোপণের পর প্রাথমিক খরচ তুলে আনতে সাথী ফসল হিসেবে তিনি একই জমিতে ফুলকপি ও পরে মরিচ চাষ করেন। এতে কলার ফলন আসতে কিছুটা দেরি হলেও তার অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে। এই জাতের কলা রোপণের ১০ থেকে ১১ মাস পর কাটার উপযোগী হয়।

তবে এই জাতের সঠিক ফলন পেতে নিবিড় পরিচর্যা প্রয়োজন। সাধারণ কলার মতো একবার সার দিলে হয় না, পুরো মৌসুমে অন্তত পাঁচ থেকে ছয়বার সার দিতে হয় এবং নিয়মিত গোড়ায় মাটি তুলে দিতে হয়। গাছে প্রচুর পার্শ্বচারা বা ‘ছাকার’ গজায়, যা মূল গাছের খাবার কেড়ে নেয় বলে এগুলো নিয়মিত কেটে ফেলতে হয়। কিন্তু কলা কাটার এক মাস আগে প্রতিটি গাছের গোড়ায় দুটি করে ছাকার রেখে দিলে পরবর্তী মৌসুমে ৩৬০টি গাছ থেকে অনায়াসেই ৭২০টি চারা পাওয়া সম্ভব। এতে কৃষকের নতুন চারার খরচ একেবারে অর্ধেকে নেমে আসে।

কলার মোচা বের হওয়ার সময় দস্তা সারের অভাব হলে কলার আকার ছোট-বড় হতে পারে। এজন্য মোচা বের হওয়ার সময় প্রতি বিঘায় ২ কেজি হিউমিক এসিড ও ২ কেজি দস্তা এবং প্রতি শতাংশে ১ কেজি টিএসপি ও আধা কেজি ইউরিয়া সার প্রয়োগের পরামর্শ দিয়েছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা। অনেক কৃষক বাজারমূল্য ভালো পেয়ে দুই থেকে আড়াই মাসের মাথায় সবুজ থাকতেই কলা কেটে ফেলেন, তবে গাছে চার মাস রাখলে এটি প্রাকৃতিকভাবেই হলুদ রং ধারণ করে।

অত্যন্ত সুমিষ্ট এই কলা পাকার পরও দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়। মূলত বিদেশে রপ্তানির উদ্দেশ্যেই এই জাতটি দেশে আনা হয়েছে। প্রতিটি কলার কাদি ৬০০ টাকা বা তার বেশি দামে বিক্রি করা সম্ভব হওয়ায় এটি স্থানীয় কৃষকদের কাছে একটি লাভজনক অর্থকরী ফসল হিসেবে ব্যাপক সাড়া ফেলছে।