বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

মাদক ঢুকিয়ে যুবসমাজ ধ্বংসের ষড়যন্ত্র চলছে: টুকু

জাতীয় ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম

মাদক ঢুকিয়ে যুবসমাজ ধ্বংসের ষড়যন্ত্র চলছে: টুকু

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে মাদকের কোনো কারখানা না থাকলেও প্রতিবেশী দেশ ভারত ও মিয়ানমার থেকে পরিকল্পিতভাবে এসব নিষিদ্ধ দ্রব্য ঢুকিয়ে তরুণ সমাজকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছেন সরকারের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার কেরানীগঞ্জের কালিন্দী তাজ প্যালেস ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত ডেঙ্গু ও মাদকবিরোধী এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। মাদক নির্মূলে সবাইকে একযোগে কাজ করার তাগিদ দেন তিনি।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা জেলার আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত টুকু উল্লেখ করেন, দেশে মাদকের কোনো নিজস্ব উৎপাদন ক্ষেত্র নেই। পার্শ্ববর্তী দুই সীমান্ত দিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে মাদক সরবরাহ করা হচ্ছে যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কখনো মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে। তিনি জানান, দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে মাদকের বিস্তার বর্তমানে ২৩ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। এখনই এই সর্বনাশা প্রবণতার লাগাম টেনে না ধরলে গোটা রাষ্ট্রব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

তরুণদের বিপথগামিতা রোধে পরিবারের সচেতনতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে প্রতিমন্ত্রী অতীতের একটি আলোচিত ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেন। তিনি বলেন, একজন পুলিশ কর্মকর্তার সন্তান ঐশী মাদকের কারণে নিজের বাবা-মাকে হত্যা করেছিল। সেই পরিস্থিতি থেকে দেশকে ফিরিয়ে আনতে হবে। শিক্ষার্থীরা নিজেদের ধ্বংসের পথে না ঠেলে দেশ গড়ার লক্ষ্যে অবিচল থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। দেশের অগ্রযাত্রায় সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতে তিনি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নীতি তুলে ধরে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

সমাবেশে ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও তাগিদ দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বসতবাড়ির আশপাশে পড়ে থাকা ডাবের খোসা কিংবা যেকোনো পাত্রে বৃষ্টির পানি জমতে দেওয়া যাবে না, কারণ সেখানেই কয়েক দিনের মধ্যে এডিস মশার বিস্তার ঘটে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় না রাখলে এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।

রাজনৈতিক অঙ্গনের সমসাময়িক প্রেক্ষাপট টেনে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বিগত সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি মন্তব্য করেন, বিগত ১৭ বছরে এমন কোনো নিপীড়নমূলক কাজ নেই যা তারা করেনি। গুম ও হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনার জন্য কোনো ধরনের অনুশোচনা প্রকাশ না করে নির্দিষ্ট তারিখে দেশে ফিরে আসার প্রকাশ্য ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে। দেশের জনগণ যাদের বিতাড়িত করেছে, তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এরা গণতন্ত্র ও দেশের শত্রু।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুকের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও ঢাকা জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম এবং জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার ইরফান ইবনে আমান অমি। এ ছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সামছুল আলম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া, কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুসসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ইমাম ও পুরোহিতরা এতে উপস্থিত ছিলেন।