বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

পঞ্চগড়ে ইমামের সংবাদ সম্মেলন মব সৃষ্টি ও টাকা দাবির অভিযোগ

আবু সালেহ মোঃ রায়হান

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম

পঞ্চগড়ে ইমামের সংবাদ সম্মেলন মব সৃষ্টি ও টাকা দাবির অভিযোগ

ছবি: দিনাজপুর টিভি

পঞ্চগড়ে আত্মীয় তরুণীসহ আটকে রেখে স্থানীয় একটি চক্রের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জনসমাগম বা ‍‍`মব‍‍` সৃষ্টি, মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি এবং ছবি তুলে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে সম্মানহানির অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাগুরাপাড়া এলাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সুগার মিল জামে মসজিদের খতিব শহিদুল ইসলাম ও ওই তরুণী এই অভিযোগ করেন।

এই ঘটনায় আইনি ন্যায়বিচার দাবি করেছেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গত মঙ্গলবার সকালে স্বামীর জন্ম নিবন্ধনের সনদ সংশোধনের কাজে ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ে আসেন ওই তরুণী। পারিবারিকভাবে অমতে বিয়ে করায় তিনি নিজ বাড়িতে না গিয়ে সুগার মিল কলোনিতে তার নানা শহিদুল ইসলামের সরকারি কোয়ার্টারে ওঠেন। খতিব শহিদুল ইসলাম জানান, তিনি নিজে মসজিদের খতিবদের নির্ধারিত কক্ষে থাকতেন এবং খালি বাসায় নাতনির সঙ্গে তার মাদরাসার এক শিশু শিক্ষার্থীকেও রাখা হয়েছিল।

অভিযোগে বলা হয়, মঙ্গলবার রাতে কোয়ার্টারে খাবার পৌঁছে দিতে গেলে কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে জড়ো হয়ে পরিকল্পিতভাবে হট্টগোল শুরু করে এবং আপত্তিকর মন্তব্য তোলে। একপর্যায়ে খতিবকে ভবনের ছাদে নিয়ে গিয়ে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। তাদের অন্যায্য আর্থিক দাবিতে রাজি না হওয়ায় জোরপূর্বক মুঠোফোনে ছবি ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তা প্রচার করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী তরুণী অভিযোগ করেন, রাতে খাবার দেওয়ার সময় কিছু ব্যক্তি ঘরে ঢুকে অশালীন আচরণ করে এবং তার ওড়না টেনে খুলে ফেলে। এরপর জোর করে ছবি তুলে অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ায় তিনি মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত ওই তরুণীর স্বামীও স্ত্রীর ওপর এমন শারীরিক ও মানসিক নিপীড়নে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে সুগার মিল কলোনি থেকে তাদের উদ্ধারের পর স্থানীয়দের চাপে খতিব শহিদুল ইসলামকে ফৌজদারি কার্যবিধির ধারায় আদালতে পাঠায় পুলিশ। পরবর্তীতে আদালত থেকে তিনি জামিন লাভ করেন। এ বিষয়ে পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান জানান, স্থানীয়রা খতিবকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করায় তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছিল। তবে মবের শিকার হওয়া বা চাঁদা দাবির বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি; অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।