সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম
ফুটবল খেলা নিয়ে সংঘর্ষের জেরে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে পটুয়াখালীর গলাচিপা। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় গলাচিপা সদর ইউনিয়নের কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে দুই পক্ষের এই সংঘাত ঘটে। এতে উভয় দলের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। মাঠের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৩২টি দল নিয়ে আয়োজিত চাইনিজবার ফুটবল টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল কালিকাপুর একাদশ ও মাটিভাঙ্গা চ্যালেঞ্জ একাদশ। খেলায় কালিকাপুর একাদশ এক গোলে এগিয়ে থাকা অবস্থায় শেষ বাঁশি বাজার মাত্র ১০ মিনিট আগে খেলোয়াড়দের মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে মাটিভাঙ্গা দলের দলনেতা রাকিব তালুকদারের পক্ষের লোকজন ইট দিয়ে আঘাত করে কালিকাপুর একাদশের দলনেতা ৩০ বছর বয়সী মিরাজ খানের মুখমণ্ডল ক্ষতবিক্ষত করে দেয়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই বিরোধ দুই গ্রামের সমর্থকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং অর্ধশতাধিক মানুষ জখম হন।
মারাত্মক আহত মিরাজ খানকে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলেও শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। হামলার শিকার তরুণের বাবার দায়ের করা এজাহারের ভিত্তিতে থানায় একটি নিয়মিত ফৌজদারি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। এরপর বৃহস্পতিবার দুপুরে রতনদীতালতলী ইউনিয়নের মাটিভাঙ্গা এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাহাঙ্গীর হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক কামাল মৃধা অভিযোগ করেন, এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিশৃঙ্খলার জন্য সরাসরি মাটিভাঙ্গা দলের খেলোয়াড় ও সমর্থকরা দায়ী। তিনি জানান, প্রতিপক্ষকে রক্তাক্ত করার পাশাপাশি হামলাকারীরা খেলা পরিচালনা কমিটির সদস্যদের ওপরও হাত তোলে।
গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং তদন্তের ভিত্তিতে আইনগত পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন