সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম
দেশের প্রতিটি অঞ্চলের বিচ্ছিন্ন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন খাতকে একটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই শিল্পে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় তিন দিনব্যাপী ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এই পরিকল্পনার কথা জানান। সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান তৈরির কাজ এখন চলমান।
মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের নদী, পাহাড়, সমুদ্র এবং বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের মতো সমৃদ্ধ সম্পদকে যথাযথভাবে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে হবে। দীর্ঘ প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার ও কুয়াকাটার পাশাপাশি সিলেটের চা-বাগান, হাওর এবং ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো দেশের অন্যতম সম্পদ। এসব সম্ভাবনাকে কয়েকটি প্রতিষ্ঠিত গন্তব্যে আটকে না রেখে দেশজুড়ে ছড়িয়ে দিতে বেসরকারি বিনিয়োগ ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবেই প্রণয়ন করা হচ্ছে পর্যটন মহাপরিকল্পনা।
কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকতকে কেন্দ্র করে একটি আঞ্চলিক পর্যটন হাব গড়ে তোলার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম চলছে। নবনির্মিত কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মূল লক্ষ্যই হলো সরাসরি বিদেশি ভ্রমণপিপাসুদের আকৃষ্ট করা। পাশাপাশি সুন্দরবনকে ঘিরে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব মডেলে বড় ধরনের আন্তর্জাতিক উদ্যোগ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে মন্ত্রণালয়।
পর্যটন বিকাশকে বর্তমান সরকারের একটি রাজনৈতিক অঙ্গীকার হিসেবেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তার মতে, কেবল প্রশাসনিক পদক্ষেপে সীমাবদ্ধ না থেকে অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য তৈরি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষায় এই খাতকে কাজে লাগানো হবে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে শক্ত অবস্থান গড়তে হলে স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং বেসরকারি খাতকে সঙ্গে নিয়ে সাশ্রয়ী ও আধুনিক রূপরেখা বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।
রাজধানীর এই আয়োজনে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তা ছাড়াও বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার এবং উন্নয়ন সহযোগীরা অংশ নিয়েছেন। আয়োজক সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে, আগামী শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মেলা সর্বসাধারণের জন্য খোলা থাকবে। প্রদর্শনীতে বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের দুই শতাধিক প্রতিষ্ঠানের প্রায় তিনশত বুথ অংশ নিচ্ছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন