সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম
দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের বিস্তার এবং সহজ শর্তে অর্থায়নের লক্ষ্যে এক হাজার ৫০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ ঋণ কর্মসূচি চালু করেছে সরকার। এই তহবিলের অধীনে সরকার পর্যায়ে বার্ষিক সুদহার নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ। তবে গ্রাহক পর্যায়ে সব ধরনের প্রশাসনিক ফি ও চার্জসহ সর্বোচ্চ কার্যকর বার্ষিক সুদহার হবে ছয় শতাংশ। গত ১৪ সেপ্টেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সামষ্টিক অর্থনীতি অনুবিভাগের রাজস্ব নীতি-এক শাখা থেকে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত পরিপত্র জারি করা হয়েছে।
আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় হ্রাস, সরকারি ভর্তুকির ওপর চাপ কমানো এবং জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা সুসংহত করার কৌশলগত লক্ষ্য নিয়ে এই তহবিল গঠন করা হয়েছে। জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০) অনুসারে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে গৃহস্থালি, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও শিল্প কারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন, সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে ঋণ দেওয়া হবে। এ ছাড়া নেট মিটারিং সংযোগ, সোলার হোম সিস্টেম, সৌরচালিত সেচপাম্প, আধুনিক ইনভার্টার, বিদ্যুৎ পরিমাপক মিটার এবং ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থা ক্রয়ে এই অর্থ ব্যয় করা যাবে।
তহবিলটির অর্থায়নে তিনটি নির্দিষ্ট আর্থিক ও উন্নয়ন সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড, বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনকে ৫০০ কোটি টাকা করে মোট এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ক্ষুদ্র, অতি ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের জন্য সংরক্ষিত দুই হাজার কোটি টাকার সংরক্ষিত থোক বরাদ্দ পুনর্বিন্যাস করে এক হাজার কোটি টাকা জোগানো হচ্ছে। অবশিষ্ট ৫০০ কোটি টাকার সংস্থান করা হবে সরকারের নিজস্ব পরিচালন ঋণ থেকে।
সরকারের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের পর চাহিদার ভিত্তিতে সংস্থাগুলোর অনুকূলে অর্থ ছাড় করা হবে। এই ঋণের সামগ্রিক মেয়াদকাল হবে ১০ বছর, যার মধ্যে প্রথম এক বছর থাকবে কিস্তি স্থগিত রাখার সুবিধা বা গ্রেস পিরিয়ড। সংস্থাগুলো সরাসরি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কিংবা সহযোগী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রাহক পর্যায়ে এই ঋণ পৌঁছে দিতে পারবে। তবে কোনো গ্রাহক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে সেই অনাদায়ী অর্থের যাবতীয় আর্থিক ঝুঁকি সংশ্লিষ্ট অংশগ্রহণকারী সংস্থাকেই বহন করতে হবে।
এই তহবিলের অর্থ অন্য কোনো খাতে সরিয়ে নেওয়ার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
পরিপত্রে স্পষ্টভাবে সতর্ক করা হয়েছে যে ঋণের টাকা দিয়ে কোনো পুরোনো ঋণ পরিশোধ, এভারগ্রিনিং, জমি ও শেয়ার ক্রয়, ব্যক্তিগত ভোগ কিংবা প্রশাসনিক ব্যয় মেটানো যাবে না। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজ নিজ পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে স্বচ্ছ ঋণ নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। সেই সঙ্গে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ, সন্ত্রাসে অর্থায়ন মোকাবিলা এবং গ্রাহক শনাক্তকরণ সংক্রান্ত যাবতীয় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিধান কঠোরভাবে পরিপালন করতে হবে। অর্থ বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পৃথক ব্যাংক হিসাব খোলা, ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি প্রয়োগ এবং প্রতিটি ঋণের জন্য স্বতন্ত্র শনাক্তকারী নম্বর ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন