বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

এক বছরের কার্যক্রম তুলে ধরল ডাকসু

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ০৯:০১ পিএম

এক বছরের কার্যক্রম তুলে ধরল ডাকসু

ছবি: সংগৃহীত

দায়িত্ব পালনের এক বছর পূর্তিতে পরিবহন, আবাসন, শিক্ষা ও আইনি সহায়তাসহ বিভিন্ন খাতে পরিচালিত এক হাজার কার্যক্রমের খতিয়ান তুলে ধরেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। বৃহস্পতিবার ডাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সহসভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েম ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এসএম ফরহাদ নির্বাচিত অন্যান্য প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে এই হিসাব তুলে ধরেন। ক্যাম্পাসকে সম্পূর্ণ সহিংসতামুক্ত রাখাকেই প্রধান অর্জন দাবি করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ভিপি সাদিক কায়েম উল্লেখ করেন, গত এক বছরে কোনো সংগঠনের শক্তি প্রদর্শন ছাড়াই ক্যাম্পাস পরিচালনা করা হয়েছে এবং অস্থিরতার কারণে এক দিনের জন্যও কোনো ক্লাস বা পরীক্ষা বন্ধ হয়নি। ক্ষমতার পরিবর্তনের পরও হলে কোনো দলের আধিপত্য বিস্তার করতে না দেওয়া এবং হল সংসদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করাকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন নেতারা। এছাড়া ডাকসু ভবনের অভ্যন্তরীণ সংস্কার কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করার দাবি করা হয়।

আবাসন সংকট দূর করতে বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে দুই হাজার ৮৪১ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্পের অর্থ ছাড় নিশ্চিত করে কাজ চালানো হচ্ছে, যা আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে সুফল দেবে বলে জানানো হয়। পাশাপাশি চীনের অর্থায়নে ২৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে দেড় হাজার আসনের একটি নতুন ছাত্রী হল নির্মাণের অনুমোদন ও স্থান নির্ধারণের প্রক্রিয়া এগিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হলে বুয়েটের মতো স্বয়ংক্রিয় সিট বরাদ্দ চালুর উদ্যোগের পাশাপাশি ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সংস্কারে সাড়ে ছয় কোটি, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের জন্য ৮১ লাখ এবং শহীদুল্লাহ হলের জন্য ২০ লাখ টাকার জরুরি বরাদ্দ আনা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের কল্যাণে পরিচালিত কার্যক্রমের মধ্যে গত এক বছরে চার শতাধিক শিক্ষার্থীকে আইনি সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলে জানায় ডাকসু। এর মধ্যে যৌন হয়রানি ও সাইবার নিপীড়নের শিকার শতাধিক শিক্ষার্থীকে আইনি সুরক্ষার পাশাপাশি এই অপরাধগুলো দমনে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাছে নির্দিষ্ট সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটি, ডে-কেয়ার ও ব্রেস্টফিডিং রুমের বাজেট বরাদ্দ এবং ১৩টি হলের রিডিংরুমে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। তবে ক্যাম্পাসের আটটি গেটে ট্রাফিক সমন্বয়, নিবন্ধিত রিকশা চালু এবং দুটি মিনিবাস ও মাইক্রোবাস কেনার সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হলেও তা আটকে রয়েছে।

একাডেমিক সংস্কারের অংশ হিসেবে এসএমটি ও একাডেমিক কাউন্সিলে শিক্ষক মূল্যায়ন নীতি অনুমোদনের পর তা বর্তমানে সিন্ডিকেটে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যদিও প্রশাসনিক বিলম্বের কারণে ডাকসুর নিজস্ব অনলাইন মাধ্যমে তা প্রাথমিকভাবে চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি সম্প্রসারণ, রেজিস্ট্রারের দপ্তর আধুনিকায়ন, মেধা বৃত্তি এবং শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্রের মানোন্নয়ন করা হয়েছে। টিএসসিতে স্বল্পমূল্যে খাবার চালু ও ৩০টির বেশি গবেষণাধর্মী সাহিত্য প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান প্রতিনিধিরা।

তবে বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি এখনো পূরণ করা সম্ভব হয়নি বলে স্বীকার করেছেন ছাত্র সংসদের নেতারা। কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন, প্রোগ্রামিং প্রশিক্ষণ, ইনোভেশন হাব, খেলার মাঠ সংস্কার এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ওয়াকওয়ে সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের কাজ বন্ধ থাকার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বিএনপি সরকারের অসহযোগিতাকে দায়ী করেন তারা। জিএস এসএম ফরহাদ জানান, যে কাজগুলো প্রশাসনিক অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল, সেগুলো আদায়ে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।