বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ক্লিন ক্যাম্পাস গড়তে ছাত্রদলকে ঢাবি প্রশাসনের সহযোগিতার আশ্বাস

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ০৬:৪৮ পিএম

ক্লিন ক্যাম্পাস গড়তে ছাত্রদলকে ঢাবি প্রশাসনের সহযোগিতার আশ্বাস

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব ও সবুজ ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তুলতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বিভিন্ন পরিবেশগত উদ্যোগে পূর্ণ সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বর্জ্য অপসারণ, মশক নিধন, সবুজায়ন, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ডেঙ্গু সচেতনতা বৃদ্ধি এবং রাস্তার অনুমোদনবিহীন অস্থায়ী দোকান অপসারণ নিয়ে ছাত্রদলের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে এই সম্মতি জানানো হয়। বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আব্দুল মতিন ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে প্রশাসন ও ছাত্রদলের প্রতিনিধি দলের এক আনুষ্ঠানিক মতবিনিময় সভায় এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

ক্যাম্পাসকে পরিচ্ছন্ন রাখতে যৌথ পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সভায় ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ জানান, ক্যাম্পাসে কার্যকর বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সাথে তারা প্রাথমিক যোগাযোগ করেছেন এবং সংস্থাটি ২০০টি ডাস্টবিন দিতে সম্মত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন সাপেক্ষে নির্দিষ্ট স্থানগুলোতে এসব ডাস্টবিন স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে শুধু একদিনের আয়োজনে সীমাবদ্ধ না রেখে বছরব্যাপী টেকসই রূপ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন তারা। 

এ লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে যেকোনো কার্যক্রমে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দেন সংগঠনের নেতারা। একই সাথে আগামী ৩ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের যৌথ সহযোগিতায় ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী বিশেষ ‍‍`ক্লিন ডে‍‍` কর্মসূচি আয়োজনের কথা জানান তারা। উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বে থাকা প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম ছাত্রদলের এই পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের নীতিগত সহযোগিতার অঙ্গীকার করেন। 

তিনি বলেন, ২০০টি ডাস্টবিন স্থাপনের ক্ষেত্রে সঠিক স্থান নির্বাচন এবং পরবর্তীতে সেগুলোর সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমোতাবেক সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মাধ্যমেই নিশ্চিত করা হবে। একই সাথে আগামী ৩ অক্টোবরের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সরাসরি যুক্ত হবে বলে জানান তিনি। ক্যাম্পাসের পরিবেশ ও সবুজায়ন ভালো অবস্থানে থাকলেও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শিক্ষার্থীদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার তাগিদ দেন তিনি।

ক্যাম্পাসের ব্যস্ত সড়কে যানজট তৈরি করা এবং পথচারীদের হাঁটার জায়গা দখল করে থাকা অস্থায়ী দোকানপাট ও স্থাপনাগুলো নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও জানান শিক্ষা বিষয়ক এই উপ-উপাচার্য। ডেঙ্গু বিস্তার রোধে ছাত্রদলের প্রস্তাবের ভিত্তিতে প্রশাসনিক ও আবাসিক এলাকায় নিয়মিত মশক নিধনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে ইতিমধ্যে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে যেকোনো ধরনের অবকাঠামো বা মনুমেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম মেনে চলার ওপর জোর দিয়েছেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী। তিনি স্পষ্ট করেন, নতুন কোনো স্থাপনা বা মনুমেন্ট নির্মাণের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠিত নীতিমালার আওতায় জায়গা নির্ধারণ, তহবিলের উৎস এবং বাস্তবায়নযোগ্যতা কঠোরভাবে যাচাই করা হয়। নিয়মবহির্ভূতভাবে কোনো স্থাপনা তৈরি হয়ে থাকলে তা বিদ্যমান বিধিবিধান অনুসারে পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে।

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনশী শামস উদ্দিন আহম্মদ। ছাত্রদলের পক্ষে আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনসহ সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।