সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ০৭:১১ পিএম
শ্রমবাজারের সিন্ডিকেট ভেঙে চুরমার করার ঘোষণা দিয়ে সরকার কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে জনগণকে সাথে নিয়ে রাজপথে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে আয়োজিত এক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। `সিন্ডিকেট ও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার: বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব` শীর্ষক এই আলোচনার আয়োজন করে জামায়াতে ইসলামী।
শ্রমবাজারের ভেতরে কোনো মহলের অন্যায় আধিপত্য বরদাশত করা হবে না। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রবাসের শ্রমবাজারে সুস্থ পরিবেশ নষ্টের সংকট কেবল মালয়েশিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে তা ছড়িয়ে পড়েছে। বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও সম্প্রতি দুবাই ও আবুধাবি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশি শ্রমিকদের কোনো কারণ না দর্শিয়ে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। নাগরিকদের এভাবে অপদস্থ করে ফেরত পাঠানো দেশের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করার শামিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার কেবল সংখ্যা গণনা করছে কিন্তু সপ্তাহের পর সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সংকটের সমাধান করছে না। প্রবাসীদের ন্যায্য অধিকার সুরক্ষিত না করে কেবল `রেমিট্যান্স যোদ্ধা` সম্বোধন করা উপহাস ছাড়া আর কিছুই নয়।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার প্রসঙ্গে জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, পুরনো আমলের সুবিধাভোগী চক্রই বাইরে পরিবর্তনের ভান করে ভেতরে নিজেদের সিন্ডিকেট ও রুট চালু রেখেছে। শেখ নজরুল রহমান ও দাতো আমিনের গড়ে তোলা সিন্ডিকেট এখনও সচল রয়েছে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তান যদি বাজার উন্মুক্ত রাখতে পারে, তবে বাংলাদেশ কেন পারবে না। পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা ঋণের বোঝা কাঁধে নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমানো শ্রমিকদের ওপর এই অন্যায় নির্যাতন মেনে নেওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাষ্ট্র পরিচালনায় বর্তমান সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, লঙ্কায় গিয়ে সবাই রাবণের চরিত্র ধারণ করছে। গণভোট, জুলাই চার্টার বাস্তবায়ন কিংবা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার যে প্রতিশ্রুতি ছিল তা বাস্তবায়িত হয়নি এবং স্বাধীন বিচার বিভাগের সচিবালয়ে এখনও তালা ঝুলছে। নির্বাচন কমিশনসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় লোক বসানো হচ্ছে দাবি করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ডিজিটাল নিরাপত্তার নামে নতুন কোনো কালাকানুন এনে জনগণের মুক্তকণ্ঠ স্তব্ধ করার চেষ্টা হলে তা আগেই রাজপথে প্রতিহত করা হবে।
মালয়েশিয়ার বাজার উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ২৫টি মাস্টার এজেন্সির পেছনে ১৫ থেকে ২২ কোটি টাকা বিনিয়োগের যে অভিযোগ উঠেছে সরকারকে তার পরিষ্কার জবাব দিতে হবে। বর্তমান সাত দফা দাবির সাথে শ্রমবাজারের দাবি যুক্ত করে আন্দোলন আট দফায় রূপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, সিন্ডিকেটে নিজের ভাই-ভাতিজা থাকলেও সেখানে সবার আগে আঘাত করা হবে। একই সাথে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সদস্যদের শুধু কাগুজে প্রতিবাদ না জানিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা রাখার তাগিদ দেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, গত চার-পাঁচ মাসে দেশে দুর্নীতি কমেনি বরং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। পাশাপাশি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার সংকুচিত করার কোনো চক্রান্ত হলে তা রুখে দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, নেজামে ইসলাম পার্টির আবদুল মাজেদ আতহারী, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এবং সাবেক রাষ্ট্রদূত সাকিব আলী।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন