বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ইসিতে সরকারি হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে জামায়াতের ৮ দফা দাবি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬, ১১:১৫ পিএম

ইসিতে সরকারি হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে জামায়াতের ৮ দফা দাবি

ছবি: সংগৃহীত

সরকারের নগ্ন হস্তক্ষেপের কারণে নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে নিজেদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করতে পারছে না বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বুধবার বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে এই অভিযোগ তুলে ধরেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি দাবি করেন, গত ১৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সাত ধাপের প্রাথমিক রূপরেখা ঘোষণা করার মাত্র চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে সরকারের আপত্তির মুখে নিজেদের অবস্থান থেকে পিছু হটেছে।

ইসির দায়িত্ব সরকারের মন রক্ষা করা নয়, সংবিধান রক্ষা করা। লিখিত বক্তব্যে জামায়াত নেতা বলেন, ঘোষিত প্রাথমিক পরিকল্পনায় আগামী ১২ নভেম্বর প্রথম ধাপ এবং ২৭ মে শেষ ধাপের নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সরকারের স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম প্রকাশ্যে এই সময়সূচি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করার পরই কমিশন তাদের সিদ্ধান্তকে ‍‍`পুরোপুরি প্রাথমিক‍‍` বলে পুনর্ব্যাখ্যা করে মন্ত্রণালয়ের সাথে নতুন আলোচনার কথা জানায়। 

গোলাম পরওয়ার প্রশ্ন তোলেন, একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সরকারি চাপের মুখে এভাবে নমনীয় হয়ে পড়লে সেই কমিশনের অধীনে কীভাবে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব। এমনকি কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে যেভাবে অসংকোচে গুরুত্ব দিয়েছেন, তাতে ইসির নিরপেক্ষতা নিয়ে সাধারণ মানুষের সংশয় আরো ঘনীভূত হয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিভিন্ন প্রশাসনিক অজুহাত তৈরি করে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঝুলিয়ে রাখার এক গভীর চক্রান্ত চলছে। অনির্বাচিত প্রশাসকদের বসিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর মেয়াদ দীর্ঘায়িত করার এই প্রক্রিয়া জনগণের মৌলিক ভোটাধিকার হরণের শামিল। তিনি পরিষ্কার ভাষায় জানান, অনির্বাচিত কোনো ব্যক্তি কখনো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির বিকল্প হতে পারেন না।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অবিলম্বে সংকট নিরসনে ৮ দফা দাবি পেশ করেছে দলটি। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং কোনো মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ বন্ধ করা; স্থানীয় সরকার নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার সব ধরনের প্রশাসনিক অজুহাত বাতিল করা; দ্রুত একটি সুস্পষ্ট, সময়বদ্ধ ও বাস্তবায়নযোগ্য নির্বাচনি রোডম্যাপ দেশবাসীর সামনে প্রকাশ করা; এবং সব প্রার্থীর জন্য কার্যকর সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা।

এছাড়া প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখা, ইসির স্বাধীনতা রক্ষায় সরকারের কার্যকর নিশ্চয়তা প্রদান, সরকার নিযুক্ত বর্তমান দলীয় প্রশাসকদের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য ঘোষণা এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা প্রদানকারী সিদ্ধান্ত বাতিলসহ পূর্বে পেশ করা ৯ দফা অবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গোলাম পরওয়ার নিশ্চিত করেন যে, জাতীয় স্বার্থ ও সংবিধান সুরক্ষায় সমমনা ১১ দলীয় ঐক্যের যৌথ যুগপৎ কর্মসূচি দেশজুড়ে অব্যাহত থাকবে। প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, হামিদুর রহমান আযাদ, এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ও মোয়াযযম হোসাইন হেলাল এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল উপস্থিত ছিলেন।