সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬, ১১:২২ পিএম
দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রতিবেশী ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রায় ৪৭ লাখ লিটার ডিজেল বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। প্রায় ৪ হাজার মেট্রিক টন ওজনের এই জ্বালানি তেলের চালানটি সরাসরি দিনাজপুরের পার্বতীপুর রিসিভিং টার্মিনাল ডিপোতে খালাস করা হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে এই তেলের চালান পৌঁছানোর আনুষ্ঠানিক তথ্য নিশ্চিত করেছেন দিনাজপুর পার্বতীপুর রেল ডিপোর অপারেশন ম্যানেজার মো. রবিউল আলম।
দ্বিপক্ষীয় পাইপলাইনের মাধ্যমে আসা এটি ৭২তম তেলের চালান। ডিপো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল নয়টায় পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল স্থানান্তর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছিল এবং দীর্ঘ পাম্পিং শেষে গত ১৫ সেপ্টেম্বর সফলভাবে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। বিগত ২০১৮ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুসারে, পরবর্তী ১৫ বছরে বাংলাদেশে প্রায় ২০ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
২০২৩ সালের মার্চ মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আন্তঃসীমান্ত পাইপলাইনটি চালু হওয়ার পর থেকে এই পাইপ রুট ব্যবহার করে বাংলাদেশ এ পর্যন্ত মোট ৩ লাখ ৩০ হাজার ৮৭ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি সম্পন্ন করেছে। ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড ২০১৫ সাল থেকেই বাংলাদেশে বিভিন্ন পেট্রোলিয়ামজাত জ্বালানি পণ্য সরবরাহ করে আসছে। ভারত ও তার প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে এটি দ্বিতীয় হলেও বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে এটিই প্রথম চালু হওয়া আন্তঃসীমান্ত জ্বালানি পাইপলাইন। অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে নির্মিত এই অবকাঠামোর মাধ্যমে প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন উচ্চগতির পরিশোধিত ডিজেল পরিবহনের পূর্ণ সক্ষমতা রয়েছে।
চলতি বছরের মার্চ মাসে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সংঘাত ও লোহিত সাগরের সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হলে বাংলাদেশেও তেলের ওপর তীব্র চাপ তৈরি হয়েছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সে সময় বিকল্প হিসেবে পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে জরুরি ভিত্তিতে ১৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করা হয়। পরবর্তীতে ঘাটতি সামাল দিতে এপ্রিল মাসে ২৫ হাজার টন, মে মাসে ৮ হাজার টন এবং সবশেষ জুলাই মাসে আরও ৮ হাজার টন পরিশোধিত ডিজেল এই রুটে আমদানি করেছিল সরকার।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন