সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬, ১০:২৬ পিএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা ডাকসু সংগ্রহশালায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর প্রতিকৃতি স্থাপনের ঘটনার জেরে এবার মাস্টারদা সূর্যসেন হলের মূল প্রবেশপথের সিঁড়িতে পাকিস্তানের সাবেক এই গভর্নর জেনারেল এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত গোলাম আযমের ছবি সেঁটে দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। বুধবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে হলের প্রবেশপথে এই অভিনব প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়।
একই সাথে বায়তুল মোকাররম মসজিদে গোলাম আযমের গণধোলাই ও জুতাপেটা খাওয়ার একটি ঐতিহাসিক ছবিও হলের দেয়ালে টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়ে এই ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ জানান শিক্ষার্থীরা। এই কর্মসূচিতে সরাসরি অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী আমানুল্লাহ এবং বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার। কর্মসূচির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আমানুল্লাহ জানান, ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি টানিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাসকে খাটো করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠী একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করে স্বাধীনতা আন্দোলন হিসেবে সাতচল্লিশের দেশভাগকে মূল ভিত্তি হিসেবে দাঁড় করানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তাঁর মতে, কোনো অবস্থাতেই বাংলার ইতিহাসের চিহ্নিত খলনায়কদের জাতীয় বীর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে দেওয়া হবে না এবং সাতচল্লিশের ভূমিকা থাকলেও ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী অর্জনই বাংলাদেশের মূল ভিত্তি।
এর আগে গত মঙ্গলবার দুপুরে ডাকসু ভবনে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা জিন্নাহর ছবি রাখার প্রতিবাদে একই ধরনের বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল নবীন শিক্ষার্থী। সেদিন দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা ডাকসু ভবনের পাদদেশে দুটি এবং সংগ্রহশালার ভেতরে রক্ষিত দুটি ছবিতে জুতো দিয়ে পদদলিত করে তীব্র ক্ষোভ জানান।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ওয়াসিম উদ্দিন রাহাত স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, সালাম ও বরকতের রক্তের বিনিময়ে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষা পেয়েছে এবং ত্রিশ লাখ শহীদের প্রাণের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। সেই ঐতিহাসিক সত্যকে অস্বীকার করে যারা মায়ের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল কিংবা একাত্তরে রাজাকার হিসেবে বর্বরতা চালিয়েছিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র ভূমিতে তাদের কোনো স্থান কখনোই মেনে নেওয়া হবে না।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন