বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পুনর্গঠন ছাড়া বিকল্প নেই

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম

শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পুনর্গঠন ছাড়া বিকল্প নেই

ছবি: সংগৃহীত

মেধাবী তরুণরাই আগামী দিনের নতুন রাজনৈতিক ধারার নেতৃত্ব দেবে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সাথে সময়োপযোগী ও আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে দেশের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন করে পুনর্গঠন করার কোনো বিকল্প নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত দিনব্যাপী নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মুখস্থ বিদ্যা শিক্ষার প্রকৃত সমাধান নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী উল্লেখ করেন, কেবল শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের বক্তব্য শোনা এবং পরীক্ষার জন্য তা মুখস্থ করে নেওয়া বর্তমান যুগে শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হতে পারে না। বিশ্বায়নের এই যুগে শিক্ষার সাথে শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী দক্ষতা, নতুন উদ্ভাবন, শিল্প কারখানা ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের প্রত্যক্ষ যোগসূত্র স্থাপন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে চীনের আধুনিক কারিগরি ও প্রায়োগিক শিক্ষাব্যবস্থার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিল্পকারখানার একটি নিবিড় কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলা হয়েছে, যার ফলে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবই পড়ার পাশাপাশি কোন বিষয়ে দক্ষ হয়ে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করবে তা আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে।

বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান প্রভাবের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, বহু দেশ এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে শিক্ষাব্যবস্থার অংশ করে নিয়েছে। তাই বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকেও ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর পৃথিবীর জন্য প্রস্তুত হতে হবে। তিনি বলেন, একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনে মেধার কোনো বিকল্প নেই এবং বিশাল ভৌগোলিক আয়তন ছাড়াও শুধু বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা দিয়ে বৈশ্বিক অঙ্গনে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। তরুণ শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন চলাকালীনই ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গ্রহণের মানসিক প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

নারী শিক্ষার প্রসারে অতীতে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে প্রবর্তিত নারী শিক্ষা উপবৃত্তি কর্মসূচির ইতিবাচক প্রভাবের কথা উল্লেখ করেন। এ সময় তিনি নিজের ব্যক্তিগত জীবনের প্রসঙ্গ টেনে জানান, বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পর সেখানে স্থায়ী নাগরিকত্ব নিয়ে থেকে যাওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করার তাগিদেই তিনি স্বদেশে ফিরে এসেছিলেন।

ছাত্ররাজনীতির গুণগত পরিবর্তন প্রসঙ্গে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন, ছাত্র নেতৃত্বের মূল ভিত্তি হতে হবে উন্নত আদর্শ, নৈতিকতা ও মানবিক শালীনতা। শিক্ষাঙ্গনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি একটি নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব ছাত্র সংগঠনগুলোর। বিশেষ করে ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীরা যেন সার্বিকভাবে নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ পান, সেদিকে সব পক্ষকে আন্তরিক ভূমিকা রাখার তাগিদ দেন তিনি।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবাগত শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে ‘আজ নবীন, আগামী দিনের নেতৃত্ব’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। আলোচনা সভার পাশাপাশি নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল ও উপহার সামগ্রী বিতরণ, আপ্যায়ন এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনব্যাপী কর্মসূচিটি সম্পন্ন হয়।