বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

চট্টগ্রামের আট কারাগারে বন্দি ১৯৮ বিদেশি নাগরিক

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম

চট্টগ্রামের আট কারাগারে বন্দি ১৯৮ বিদেশি নাগরিক

ছবি: সংগৃহীত

মাদক চোরাচালান এবং আন্তর্জাতিক ডিজিটাল প্রতারণাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে চট্টগ্রাম বিভাগের আটটি কারাগারে বর্তমানে ১৯৮ জন বিদেশি নাগরিক বন্দি রয়েছেন। কারা প্রশাসনের তথ্যমতে, এই বিদেশি বন্দিদের মধ্যে আদালতের রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদি হিসেবে রয়েছেন ৩০ জন এবং বাকি ১৬৮ জন বিভিন্ন বিচারাধীন মামলায় হাজতি হিসেবে কারাভোগ করছেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মিয়ানমার, চীন, নাইজেরিয়া, লাওস, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম ও নেপালসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিক। মিয়ানমারের নাগরিকদের বড় একটি অংশই মাদক মামলার আসামি।

বিভাগের কারাগারভিত্তিক বন্দি পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ১৩ জন দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদিসহ সর্বাধিক ৮৩ জন বিদেশি বন্দি রয়েছেন। এছাড়া কক্সবাজার জেলা কারাগারে ৬১ জন, বান্দরবানে ৪৫ জন এবং ফেনী জেলা কারাগারে বন্দি আছেন তিনজন। অন্যদিকে কুমিল্লা ও রাঙামাটি কারাগারে দুজন করে এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নোয়াখালী কারাগারে একজন করে বিদেশি নাগরিক বন্দি রয়েছেন বলে কারা রেকর্ড নিশ্চিত করেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক ধারাবাহিক অভিযানে বড় পরিসরে বিদেশি নাগরিকদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম নগরের খুলশী এলাকার একটি আবাসিক ভবনে সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও থানা পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের মোট ৬৩ জন নাগরিককে গ্রেপ্তার করে। তাদের হেফাজত থেকে ১৩৪টি মোবাইল ফোন ও ৫৭টি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়, যা ব্যবহার করে চাকরির ভুয়া প্রলোভন ও অনলাইন বিপণনের নামে প্রতারণা চালানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেল থেকে পাঁচজন চীনা ও একজন তাইওয়ানের নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়, যাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছিল ১ হাজার ৯৩৮টি iPhone এবং ৪০টি ল্যাপটপ।

সাইবার অপরাধের পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে মাদক পাচারের নেটওয়ার্কেও বিদেশিদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কম্পিউটারের ইউপিএসের ভেতরে অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রাখা তিন কেজি ৯০০ গ্রাম কোকেনসহ বাহামা দ্বীপপুঞ্জের নারী নাগরিক স্ট্যাশিয়া শ্যান্টিয়া রোলকে আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই আন্তর্জাতিক চক্রের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকায় পেশাদার ফুটবলার হিসেবে বিভিন্ন ক্লাবে খেলা দুই নাইজেরিয়ান নাগরিক আফিজ ওয়াহাব ও ইকোচুকু এনওয়াগডকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দারা।

চট্টগ্রাম বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শক মো. ছগির মিয়া জানান, সীমান্ত ও উপকূলীয় অঞ্চলের কৌশলগত সুযোগ নিয়ে সংঘবদ্ধ অপরাধে জড়ানো বিদেশিদের আইনানুগ প্রক্রিয়ায় কারাগারে রাখা হয়েছে। বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর সাজাপ্রাপ্ত ও বিচারাধীন এসব ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।