বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পে বিলম্ব না করার কড়া নির্দেশ

জাতীয় ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পে বিলম্ব না করার কড়া নির্দেশ

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সব উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে অহেতুক সময়ক্ষেপণ কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না, কারণ এতে সরাসরি আর্থিক অপচয় ও প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি পায়। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতাধীন চলমান ও সবুজ পাতায় অন্তর্ভুক্ত অননুমোদিত প্রকল্পসমূহের এক বিশেষ পর্যালোচনা সভায় তিনি এই নির্দেশনা দেন।

প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের নির্দেশ এসেছে। সভায় বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নতুন ও সংশোধিত প্রকল্পগুলোর উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব বা ডিপিপি দ্রুততম সময়ে প্রণয়ন করতে হবে। প্রতিটি কাজের বিপরীতে সময়ভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়ে নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে বাস্তবায়ন শেষ করার ওপর তিনি জোর দেন। কারাগার সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও কঠোর বিধিনিষেধের কারণে কাজের স্বাভাবিক গতি কিছুটা মন্থর হওয়া স্বাভাবিক হলেও অন্যান্য সাধারণ সিভিল ও অবকাঠামোগত কাজে কোনো ধরনের বিলম্বের সুযোগ নেই বলে সতর্ক করেন তিনি। বিশেষ করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তর নির্মাণসহ সকল সাধারণ অবকাঠামো নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ করার তাগিদ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে অবকাঠামো আধুনিকায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। মন্ত্রী জানান, দেশের প্রতিটি জেলায় ডগ স্কোয়াড গঠন, ডোপ টেস্টের সুবিধা জোরদার, থানার হাজতখানা ও মালখানা আধুনিকায়ন এবং জেলা পর্যায়ে সর্বাধুনিক ফরেনসিক ল্যাব ও ডিজিটাল ফরেনসিক সুবিধা স্থাপন সংক্রান্ত প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সূচি মেনে বাস্তবায়ন করতে হবে। গ্রামীণ জনপদের থানাগুলোকে মানসম্মত মডেল থানায় রূপ দিতে একটি সুনির্দিষ্ট প্রোটোটাইপ ডিজাইন অনুসরণের আহ্বান জানান তিনি। যেসব স্থানে জমি সংকট রয়েছে, সেখানে দ্রুত ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করে একটি সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়।

সভায় উপস্থিত পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি উন্নয়ন বরাদ্দের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে কাজের দ্বৈততা পরিহারের আহ্বান জানান। তিনি বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের পরিবর্তে সমন্বিত বা ক্লাস্টার পদ্ধতি অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেন। সরকারের বর্তমান মেয়াদের বাকি চার থেকে সাড়ে চার বছরের মধ্যে দৃশ্যমান টেকসই অগ্রগতি অর্জনে চলমান প্রকল্পগুলোর কার্যকারিতা পুনর্মূল্যায়ন ও পরিধি পুনর্বিন্যাসের ওপর জোর দেন তিনি।

চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে জনশৃঙ্খলা ও সুরক্ষা খাতের উন্নয়নে এডিপিতে মোট দুই হাজার ৬৬২ দশমিক শূন্য পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে অর্থায়ন করা হচ্ছে দুই হাজার ৫৫২ দশমিক শূন্য আট কোটি টাকা এবং বৈদেশিক প্রকল্প ঋণ ও অনুদান হিসেবে রাখা হয়েছে ১০৯ দশমিক ৯৭ কোটি টাকা।

নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার সামগ্রিক ভিশন সামনে রেখে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির আলোকে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ২৬টি অগ্রাধিকারমূলক বিষয়ের প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। পঞ্চবার্ষিক অর্থনৈতিক সংস্কার ও উন্নয়ন কৌশলের আওতায় পুনরুদ্ধার, পুনর্বাসন ও পুনর্গঠন নীতি অনুসরণ করে আইনশৃঙ্খলা খাতকে রূপান্তরধর্মী পরিবর্তনের মাধ্যমে সুসংহত করতে কাজ চলছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ১০টি অধিদপ্তর ও সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তা এবং প্রকল্প পরিচালকরা এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নেন।