সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ০৯:২৮ পিএম
মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের বহুল প্রতীক্ষিত জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬-এর গেজেট প্রকাশের আইনি প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রণীত খসড়াটি বর্তমানে শেষ মুহূর্তের যাচাই-বাছাই ও পরিমার্জনের কাজ চলছে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে খসড়াটি আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে এবং সেখান থেকে আনুষ্ঠানিক ছাড়পত্র পেলেই বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় থেকে মূল গেজেট প্রকাশিত হবে।
প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে একটি মূল গেজেটের পাশাপাশি বিভিন্ন বাহিনী ও বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের জন্য আরও পাঁচ থেকে সাতটি পৃথক এসআরও জারির প্রস্তুতি চলছে। এসব পৃথক নির্দেশনার আওতায় থাকবে বেসামরিক প্রশাসন, বাংলাদেশ পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, সশস্ত্র বাহিনী, স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস। একই সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন নির্ধারণ ও বকেয়া সমন্বয় করতে সরকারের আর্থিক সফটওয়্যার আইবাস প্লাস প্লাসে প্রয়োজনীয় তথ্য হালনাগাদ করা হচ্ছে, যার মধ্যে অবসরপ্রাপ্তদের পেনশনের তথ্য অন্তর্ভুক্তির কাজ অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত এই বেতন স্কেল পেছনের তারিখ অর্থাৎ চলতি ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে প্রস্তুতকৃত এই কাঠামোয় ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডের নির্ধারিত বেতন রাখা হয়েছে এক লাখ ৫৬ হাজার টাকা। এতে প্রথম থেকে ১১তম গ্রেড পর্যন্ত মূল বেতন দ্বিগুণ হচ্ছে এবং ২০তম গ্রেডে বেতন বৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। ফলে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাত কমে দাঁড়িয়েছে ১:১ দশমিক ৭৮। এর পাশাপাশি সব গ্রেডের জন্য মোবাইল ভাতা এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য মাসিক তিন হাজার টাকা ভাতার সংস্থান রাখা হয়েছে।
নতুন কাঠামোয় অবসরপ্রাপ্তদের পেনশনেও ধাপে ধাপে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে।
নিট পেনশনের ক্ষেত্রে মাসিক নয় হাজার টাকা বা তার কম প্রাপ্তদের পেনশন ১০০ শতাংশ, নয় হাজার এক থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৭৫ শতাংশ এবং ২০ হাজার এক থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬৫ শতাংশ বাড়ানো হচ্ছে। এছাড়া ৩০ হাজার এক থেকে ৪০ হাজার টাকায় ৬০ শতাংশ এবং ৪০ হাজার টাকার ওপরে নিট পেনশনভোগীদের ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সাথে সামরিক ও বেসামরিক উভয় ক্ষেত্রে বহুল আলোচিত ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ নীতি ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
পুরো বেতন স্কেলটি ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরের মধ্যে ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে। মূল বেতন চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ১ জুলাইয়ের মধ্যে মোট তিন ধাপে সমন্বয় করা হবে এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার ভাতাগুলো ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে একযোগে কার্যকর হবে।
সরকারের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ২৪ লাখ কর্মরত সামরিক-বেসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া নয় লাখ অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগী এই নতুন কাঠামোর আওতায় আসবেন। এর ফলে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে প্রতি বছর সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় এক লাখ পাঁচ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন