সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ০৮:২৮ পিএম
বেসরকারি খাতের বন্ধ হয়ে যাওয়া চারটি পাটকল চুক্তির ভিত্তিতে নতুন করে চালু করেছে শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী আবুল খায়ের গ্রুপ। গ্রুপের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান শাহ অ্যাগ্রো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনায় কারখানাগুলো সচল হওয়ায় প্রায় ১৫ হাজার শ্রমিকের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। চলতি বছরের বিভিন্ন সময়ে উৎপাদনে ফেরা এসব কারখানার পাটপণ্য আন্তর্জাতিক বাজারেও নিয়মিত রপ্তানি হচ্ছে।
রুগ্ণ পাটশিল্পে এক নতুন ব্যবসায়িক রূপরেখা সামনে এনেছে এই উদ্যোগ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পুনরায় চালু হওয়া পাটকলগুলোর মধ্যে রয়েছে ফরিদপুরের রাজ্জাক জুট ইন্ডাস্ট্রিজ, ফরিদপুর জুট ফাইবার্স ও দাহমাশী জুট ইন্ডাস্ট্রিজ এবং মাগুরার এআর জুট মিলস। গত বছর কাঁচা পাট কেনাবেচার মাধ্যমে এই খাতে পা রাখার পর বন্ধ কারখানার মালিকদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে কার্যক্রম শুরু করে গ্রুপটি। এই চারটি কারখানা থেকে বছরে ৮০ হাজার মেট্রিক টন পাটের সুতা ও বৈচিত্র্যময় পাটপণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে কারখানাগুলো থেকে চীন ও তুরস্কে প্রায় ১২০ কোটি মার্কিন ডলার সমমূল্যের পাটের সুতা পাঠানো হয়েছে।
নতুন কারখানা স্থাপনের বিপুল বিনিয়োগ এড়িয়ে বিদ্যমান অবকাঠামোকে কাজে লাগানোই এই মডেলের মূল কৌশল। আবুল খায়ের গ্রুপের হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড লিগ্যাল শেখ শাবাব আহমেদ জানান, পাটপণ্য উৎপাদন অত্যন্ত মূলধননির্ভর হওয়ায় তারা বন্ধ মিলগুলোর মালিকপক্ষের সঙ্গে উৎপাদনভিত্তিক চুক্তি করেছেন। এই প্রক্রিয়ায় গ্রুপটি সরাসরি কাঁচা পাট সরবরাহ করে এবং মিল কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের পরিচালিত করে পণ্য উৎপাদন নিশ্চিত করে, যা পরবর্তীতে বিদেশে রপ্তানি করা হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বেসরকারি খাতের আরও দুই থেকে তিনটি বন্ধ মিল চালুর বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং সরকারিভাবে বন্ধ থাকা তিন থেকে চারটি পাটকল ইজারায় নেওয়ারও আবেদন করেছে তাদের প্রতিষ্ঠান।
ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবেশবান্ধব পাটপণ্যের চাহিদা মেটাতে উচ্চমূল্যের প্রক্রিয়াজাত পণ্য উৎপাদনের বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে এই শিল্পগোষ্ঠীর।
শিল্প সংশ্লিষ্টরা এই ব্যতিক্রমী চুক্তিভিত্তিক উদ্যোগকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন। বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান তাপস প্রামাণিক জানান, প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে বন্ধ মিল সচল করার এই ব্যবসায়িক কাঠামো কার্যকর ভূমিকা রাখছে। আবুল খায়েরের মতো বড় শিল্পগ্রুপগুলো আন্তরিক হলে পাট খাতের হারানো ঐতিহ্য ফিরে আসবে এবং বিশ্ববাজারে দেশের অবস্থান আরও জোরালো হবে বলে মনে করেন তিনি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন