বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

শিশু রায়হানের পা হারানোর নেপথ্যে মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম

শিশু রায়হানের পা হারানোর নেপথ্যে মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার বারো বছর বয়সী শিশু মো. রায়হানকে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে রাজধানীর কোনো সংঘবদ্ধ চক্র তার পা কেটে দিয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগের কোনো সত্যতা অনুসন্ধানে মেলেনি। বাস্তবে গত জুন মাসে রাজধানীতে একটি ট্রেন দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর সরকারি হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার একটি পা কেটে ফেলতে হয়েছিল। 

তবে ঘটনাটি কেন্দ্র করে পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া বক্তব্যে বহুবিধ অসঙ্গতি প্রকাশ পাওয়ায় শিশুটির বাড়ি ছাড়া ও দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকার পেছনের কারণ নিয়ে নতুন করে রহস্য ঘনীভূত হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত অপহরণ ও চক্রের পা কাটার দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। ঢাকা রেলওয়ে থানার দাপ্তরিক সূত্রের বরাতে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে আল আমিন নামের এক যুবকের সঙ্গে লাভের ভাগাভাগির ভিত্তিতে বোতলজাত পানি বিক্রির পাশাপাশি ভিক্ষাবৃত্তির সঙ্গে যুক্ত ছিল রায়হান। 

চলতি বছরের ১১ জুন বিমানবন্দর এলাকা থেকে গোসল শেষে কমলাপুরে ফেরার পথে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় সে গুরুতর দুর্ঘটনার শিকার হয়। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করে। চিকিৎসকদের ধারাবাহিক পর্যালোচনা শেষে ২ জুলাই রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করে জীবন বাঁচাতে তার একটি পা কেটে বাদ দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তাকে আইসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। মাথায় গুরুতর জখম থাকায় পরবর্তীতে তাকে জাতীয় নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালেও চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল।

হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহায়তায় পরিচর্যা শেষে শিশুটি কমলাপুর স্টেশনে ‍‍`মালির মা‍‍` হিসেবে পরিচিত জরিনা নামের এক নারীর কাছে আশ্রয় নিয়েছিল। পরবর্তীতে রায়হান বাড়ি ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করলে তার বন্ধু জাকির এবং রেলওয়ে পুলিশের এক কনস্টেবলের সহযোগিতায় তাকে বাসে তুলে দেওয়া হয়। এর আগে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে হাসপাতালের মেঝেতে বসে থাকা অবস্থায় রায়হান নিজেই জানিয়েছিল যে ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে সে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে এবং সে সময় সে দাবি করেছিল তার কোনো মা-বাবা বেঁচে নেই।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় সাত মাস পূর্বে লোহাগাড়ার সাতগড় নোয়াপাড়ার স্থানীয় একটি হেফজখানা থেকে নিখোঁজ হয়েছিল রায়হান। পরবর্তীতে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ভোরে চুনতির সিরাত মাহফিলের মাঠে ভিক্ষা করার সময় স্থানীয় লোকজন তাকে শনাক্ত করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন। রায়হানের বাবা পেশায় দিনমজুর এবং তার মায়ের সঙ্গে পূর্বেই বিবাহবিচ্ছেদ হওয়ায় সে সৎমায়ের সঙ্গে বসবাস করত। রায়হানের বাবা দাবি করেন যে উদ্ধারের পরই তিনি ছেলের পা হারানোর বিষয়টি জানতে পারেন, অথচ স্থানীয়দের অভিযোগ ফেসবুকের ছবি দেখার পরেও তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ছেলেকে দেখতে যাননি।

ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার কথা জানিয়ে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বায়েজিদ-বিন-আখন্দ জানান যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিশুটিকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। শিশুটির নিখোঁজ হওয়া ও ঢাকায় চলে যাওয়ার পেছনে কোনো পারিবারিক কলহ বা সহিংসতা ছিল কি না তা বিস্তারিতভাবে তদন্ত করছে প্রশাসন।