বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

মানবপাচার প্রতিরোধে আইন কার্যকরের তাগিদ দিলেন আইনমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম

মানবপাচার প্রতিরোধে আইন কার্যকরের তাগিদ দিলেন আইনমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

মানবপাচারকে চরম অমানবিক ও নিষ্ঠুর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে এটি কার্যকরভাবে প্রতিরোধে প্রচলিত আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং বিচারপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আইন মন্ত্রণালয় এবং জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ সংক্রান্ত জাতীয় পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তাগিদ দেন। 

তিনি স্পষ্ট করেন যে কেবল আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়, বরং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহের আধুনিক কৌশল নিশ্চিত করাও এখন সময়ের দাবি। বর্তমানে দেশের আদালতগুলোতে প্রায় ৪৬ লাখ বিচারাধীন মামলার বিপরীতে বিচারক রয়েছেন মাত্র ২ হাজার ৪০০ জন। বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন যে এর জন্য এককভাবে বিচারকদের দোষারোপ করার কোনো সুযোগ নেই, কারণ এটি বিচারব্যবস্থার দীর্ঘদিনের কাঠামোগত ও পদ্ধতিগত সীমাবদ্ধতার ফল। 

সরকার এই বিশাল মামলার জট কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মানবপাচারবিষয়ক আন্তর্জাতিক প্রোটোকল অনুমোদন করেছে এবং সেই অঙ্গীকার রক্ষায় নিয়মিত কাজ চলছে। তবে মামলার তদন্ত পরিচালনায় প্রয়োজনীয় জনবলের অভাব, অভিযোগকারীদের অনাগ্রহ এবং উপযুক্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ সময়মতো জোগাড় করতে না পারাই দ্রুত বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে মূল প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করছে।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহার রোধে আইনি সংস্কারের চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী জানান যে অনলাইন জুয়া এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে মানবপাচার নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ প্রণয়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন যুগোপযোগী করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন যে অনলাইনে মাদক কেনাবেচা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য নতুন ধরনের জটিলতা তৈরি করছে। এই ধরনের প্রযুক্তিভিত্তিক অপরাধের বিস্তার রোধে সরকার বাংলাদেশ পুলিশের জন্য একটি বিশেষায়িত পৃথক সাইবার ইউনিট গঠনের রূপরেখা নিয়ে এগোচ্ছে।

বিদেশে কর্মরত রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সুরক্ষা প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে উন্নত জীবনের আশায় মানুষকে বিদেশে যাওয়া থেকে বিরত রাখা অসম্ভব হলেও অনিয়মিত অভিবাসনের কারণে বহু নাগরিক চরম দুর্দশায় পড়েন। এসব শ্রমিকের অধিকার রক্ষায় গন্তব্য দেশগুলোর দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান তিনি। মন্ত্রী জানান, লিগ্যাল এইড অধিদপ্তরের বিশেষ হটলাইনের মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা সংকটের মুহূর্তে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সরকারি আইনগত সহায়তা গ্রহণ করতে পারছেন। আইন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেম উল কায়েসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তরের দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক প্রতিনিধি ক্রিস্টিয়ান হোলগে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।