সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ০৫:১১ পিএম
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঐতিহাসিক রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করে এবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত `মিট দ্য প্রেস` অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমের কাছে এই গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ।
তিনি উল্লেখ করেন যে বৈশ্বিক এই ফোরামে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের অংশগ্রহণ কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ মর্যাদাই বৃদ্ধি করবে না, বরং চলমান আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও একটি অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ভূমিকা পালন করবে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং পেশাদারিত্ব প্রসঙ্গেও সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন প্রেস সচিব।
অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে বিশদ আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন যে বর্তমান সরকার সংবাদমাধ্যমের নিরঙ্কুশ স্বাধীনতার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান বজায় রেখেছে, তবে স্বাধীনতার অর্থ কোনোভাবেই স্বেচ্ছাচারিতায় রূপ নিতে পারে না। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কতটুকু প্রসারিত হবে বা এর পরিধি কী হবে, তা নির্ধারণ করার দায়িত্ব সরকার কিংবা সাধারণ জনগণের নয়। দেশের আইনি কাঠামো অনুযায়ী এ বিষয়ে যেকোনো বিরোধ বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের একমাত্র সাংবিধানিক এখতিয়ার স্বাধীন বিচার বিভাগের।
তথ্যপ্রযুক্তির সাম্প্রতিক যুগে সংবাদমাধ্যমে অসত্য তথ্য ও বিভ্রান্তির বিস্তার রোধে সাংবাদিকদের সর্বোচ্চ সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেস সচিব। তিনি বলেন, যেকোনো ধরনের গুজব, সামাজিক গুঞ্জন ও পরিকল্পিত অপপ্রচার প্রতিহত করতে প্রতিটি গণমাধ্যম সংস্থাকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য যাচাই বা ফ্যাক্ট চেকিং সেল প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে নিয়মতান্ত্রিক তথ্য পরীক্ষার কোনো বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ও সামগ্রিক প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন যে পূর্ববর্তী প্রশাসনের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর প্রশাসনিক কাঠামো এবং বর্তমানের অস্থির বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি সরকার সফলভাবে সামাল দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিচ্ছে। সব ধরনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা ও আন্তর্জাতিক নানামুখী ঝুঁকি কাটিয়ে বাংলাদেশ এখন আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী সম্প্রদায়ের কাছে একটি নিরাপদ ও টেকসই রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন