বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

কোরআন প্রতিযোগিতায় চার বিজয়ী হাফেজকে প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনা

জাতীয় ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম

কোরআন প্রতিযোগিতায় চার বিজয়ী হাফেজকে প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনা

সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় অসাধারণ সাফল্য অর্জনকারী বাংলাদেশের চারজন কৃতি হাফেজকে রাষ্ট্রীয়ভাবে উষ্ণ সংবর্ধনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের মেধার মূল্যায়ন করে তাদের হাতে বই উপহার তুলে দেন সরকারপ্রধান। এ সময় তিনি স্পষ্ট করে জানান যে মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে দেশের তরুণরা ভালো যা কিছু অর্জন করবে, বর্তমান সরকার রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে তার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করবে। 

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এই সংবর্ধনা সভার বিষয়ে বিস্তারিত অবহিত করেন। সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১৩৩টি দেশের প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিলেন। সেখানে লাল-সবুজের পতাকা উজ্জ্বল করে ১৫ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে বিশ্বসেরা হয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেন হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া। একই প্রতিযোগিতায় ৩০ পারা হিফজ ক্যাটাগরিতে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন হাফেজ শেখ মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান আশরাফী। 

এ ছাড়া নারী বিভাগে কৃতিত্বপূর্ণ সাফল্য দেখিয়েছেন দেশের দুই নারী প্রতিযোগী, যেখানে ১৫ পারায় হাফেজা রাবেতা বিনতে রমজান এবং ৩০ পারা হিফজ ক্যাটাগরিতে হাফেজা মুসফিরা বিনতে মাহমুদ তৃতীয় স্থান লাভ করেছেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পুরস্কার এনে দেওয়া সেই পবিত্র আয়াতগুলো সরাসরি হাফেজদের সুললিত কণ্ঠে শোনেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে অর্জিত এই বিপুল সম্মান কেবল সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের একক জয় নয়, বরং এটি সমগ্র বাংলাদেশের মুসলমানদের সম্মিলিত গৌরব। তিনি মন্তব্য করেন যে দীর্ঘ সময় পর দেশের হাফেজদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান জানানো হলো, যার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মেধার যথাযথ বিকাশের পথ উন্মুক্ত হবে। মেধাবীদের সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করলে দেশ ও জাতির সুদূরপ্রসারী কল্যাণ সাধিত হবে বলে তিনি মত দেন। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কৃতি হাফেজদের বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষকেরা তাদের বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন সমস্যার কথা সরকারপ্রধানের নজরে আনেন। 

এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সরকারি সক্ষমতা অনুযায়ী এসব সংকট সমাধানের সর্বোচ্চ চেষ্টার আশ্বাস দেন। তিনি আরও বলেন যে আগামী দিনে বিশ্বের অন্যান্য আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নিয়মমাফিক অংশগ্রহণের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হবে, যাতে তরুণরা দেশের সুনাম আরও বৃদ্ধি করতে পারে। 

একই সঙ্গে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা ও ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য তিনি সহযোগিতা কামনা করেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। এ ছাড়া পুরস্কার বিজয়ী হাফেজদের শিক্ষক কাইয়ুম মোল্ল্যা, মুঈনুদ্দীন মজুমদার, আবু বকর, সাজেদা খাতুন ও মাওলানা রফিকুল ইসলাম উপস্থিত থেকে আলোচনায় অংশ নেন।