সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ১২:০৫ পিএম
কারাবাও কাপের ম্যাচে নিজেদের ঘরের মাঠ ওল্ড ট্রাফোর্ডে দুই গোলের সুস্পষ্ট লিড নিয়েও শেষ পর্যন্ত ব্রাইটনের কাছে ৩-২ ব্যবধানে পরাজিত হয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। দীর্ঘ ৫০ বছর পর ঘরের মাঠে দুই গোলে এগিয়ে থেকেও কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে এমন বিব্রতকর পরাজয়ের তিক্ত অভিজ্ঞতা হলো রেড ডেভিলদের। স্বাগতিক দলের শুরুটা ছিল অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক, যেখানে একাডেমি থেকে উঠে এসে প্রথমবারের মতো শুরুর একাদশে সুযোগ পাওয়া তরুণ শিয়া লেসি দলকে দ্রুত এগিয়ে দেন।
এর ঠিক দশ মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন অভিজ্ঞ মেসন মাউন্ট। দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি সফরকারী ব্রাইটন। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক পূর্বমুহূর্তে চারালামপোস কোস্তুলাসের দারুণ এক গোলে ব্যবধান কমায় দলটি। দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে আরও আগ্রাসী ফুটবল খেলতে শুরু করে সফরকারীরা, যার মুখে ইউনাইটেডের ভঙ্গুর রক্ষণভাগ পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। এরপর পাসকাল গ্রস গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান এবং শেষ দিকে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামা ম্যাক্সিম দে কুইপার বল জালে জড়িয়ে ব্রাইটনকে প্রথমবারের মতো জয়ের পথে এগিয়ে নেন।
ম্যাচে এগিয়ে যাওয়ার পর থেকেই ওল্ড ট্রাফোর্ডজুড়ে স্বাগতিক সমর্থকদের ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয় এবং তারা নিজেদের খেলোয়াড়দের লক্ষ্য করে তীব্র দুয়োধ্বনি দিতে থাকেন, যা রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পরও অব্যাহত থাকে। পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৯২-৯৩ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ যুগ শুরু হওয়ার পর থেকে ঘরের মাঠে দুই গোলের লিড নিয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এই প্রথম কোনো ম্যাচে হার দেখল ম্যানইউ। এর আগে ১৯৭৬ সালে টটেনহ্যামের বিপক্ষে ঘরের মাঠে দুই গোলে এগিয়ে থেকেও ৩-২ ব্যবধানে শেষবার পরাজিত হয়েছিল তারা।
টানা ব্যর্থতায় রেড ডেভিলদের প্রধান কোচ মাইকেল ক্যারিকের ওপর তৈরি হওয়া চাপ এখন আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। মাত্র তিন দিন আগে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে বিতর্কিত পরাজয়ের পর এবার ব্রাইটনের বিপক্ষে জয় হাতছাড়া করে ছিটকে যেতে হলো ঘরোয়া এই টুর্নামেন্ট থেকে। তাছাড়া চলতি প্রিমিয়ার লিগেও চার ম্যাচে মাত্র একটি জয় ও একটি ড্র নিয়ে পয়েন্ট তালিকার ১৩তম অবস্থানে ধুঁকছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন