বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নতুন সমীকরণ

জাতীয় ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নতুন সমীকরণ

ছবি: সংগৃহীত

তৃণমূলের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হয়ে সাধারণ ভোটারদের আস্থা অর্জন এবং নির্বাচিত হওয়ার পর জনগণের কাছে সরাসরি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে এক নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সমীকরণ তৈরি হতে যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড গতিশীল করার পাশাপাশি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সরাসরি সম্পৃক্ত করে মাঠপর্যায়ে দল পুনর্গঠন ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব বাছাইকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকার মনে করছে, দলীয়ভাবে জনপ্রিয় নেতৃত্ব বাছাইয়ের পাশাপাশি এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের দূরত্ব কমবে এবং নাগরিক সেবার প্রতি দায়বোধ বৃদ্ধি পাবে।

আসন্ন এই নির্বাচনকে ঘিরে মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে তৎপরতা বাড়তে শুরু করেছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন যে নির্বাচনের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরুর পর থেকেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে সক্রিয়তা লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রার্থীরা নিজ উদ্যোগে রাস্তাঘাট মেরামত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং স্থানীয় নানা সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে সরাসরি অংশ নিচ্ছেন, যার ফলে ভোটের আগেই জনসাধারণের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃত্বের একটি দায়বদ্ধতার সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে। 

সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রতীক থাকছে না। এর ফলে দলীয় প্রতীকের একক প্রভাবের বদলে প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতা, সততা এবং এলাকার উন্নয়নে তার অতীত ভূমিকা বিবেচনা করেই ভোট দেওয়ার পূর্ণ সুযোগ পাবেন সাধারণ নাগরিকরা। যদিও এককভাবে দলীয় প্রতীকে ভোট করার সুযোগ থাকছে না, তবুও তৃণমূল পর্যায়ে রাজনৈতিক সমর্থনপুষ্ট নির্দিষ্ট যোগ্য প্রার্থীদের উৎসাহিত করার কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। সেই সঙ্গে তিনি নিশ্চয়তা দেন যে নির্বাচন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, অবাধ ও প্রভাবমুক্ত রাখতে নির্বাচন কমিশনকে সরকার সব ধরনের প্রশাসনিক ও লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করবে।

এদিকে সুশাসনের জন্য নাগরিক বা সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত স্থানীয় ভোট আয়োজনের তাগিদ দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে অনির্বাচিত সরকারি প্রশাসকদের দীর্ঘ মেয়াদে দায়িত্বে রাখা হলে জনমনে নানা সমালোচনা সৃষ্টি হতে পারে। জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দায়িত্ব গ্রহণ করলে এলাকার উন্নয়ন ও নাগরিক সমস্যার সমাধানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে বলে তিনি অভিমত দেন।

নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত প্রস্তুতি হিসেবে নির্বাচন কমিশন চলতি অর্থবছরেই বিভিন্ন ধাপের ভোট শেষ করার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা নিয়ে এগোচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের এই বিশাল নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের সম্ভাব্য আর্থিক প্রাক্কলন তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করতে সাত ধাপের একটি প্রাথমিক সময়সূচিও তৈরি করেছে কমিশন। সম্ভাব্য এই সময়সূচি অনুযায়ী প্রথম ধাপের ভোট অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপ আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ধাপের ভোট গ্রহণ করা হবে ২৭ মে।

বিদ্যমান স্থানীয় সরকার কাঠামোয় ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের জনপ্রতিনিধিরা সরাসরি জনগণের গোপন ভোটে নির্বাচিত হন, অন্যদিকে জেলা পরিষদের প্রতিনিধিরা পরোক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে থাকেন। আইনগতভাবে ইউনিয়ন পরিষদ আইনের ২০ ধারা এবং উপজেলা পরিষদ আইনের সংশ্লিষ্ট বিধানাবলী অনুসারে তফসিল ঘোষণা, ভোট গ্রহণ এবং ফলাফল চূড়ান্তকরণের পূর্ণ সাংবিধানিক কর্তৃত্ব নির্বাচন কমিশনের হাতেই ন্যস্ত রয়েছে।

তথ্যসূত্র: বাসস