সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম
পটুয়াখালীর একটি গভীর নলকূপ থেকে অনবরত গ্যাস বের হওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে শাহবাজপুর গ্যাস ফিল্ডের একটি বিশেষজ্ঞ দল। মাটির প্রায় ৭৬০ ফুট নিচ থেকে ওঠা এই গ্যাসকে প্রাথমিকভাবে পকেট বা বায়োজেনিক গ্যাস বলে ধারণা করা হচ্ছে। গ্যাস নিঃসরণের স্থানে লাল ফিতা দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করে স্থানীয়দের নিরাপদে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রতিনিধি দলটি গ্যাসের নমুনা ও পানির নমুনা সংগ্রহ করে। গভীরতা ও চাপের মাত্রা পরীক্ষা করে দেখা যায় গ্যাসটির চাপ অত্যন্ত কম। পরিদর্শনে আসা দলের এক কর্মকর্তা উপস্থিত লোকজনকে গ্যাসের ধরন সম্পর্কে ধারণা দেন। তিনি বলেন, প্রকৃতিতে সাধারণত বায়োজেনিক ও থার্মোজেনিক এই দুই ধরনের গ্যাস পাওয়া যায় এবং শ্যালো বা অগভীর স্তরে জৈব পদার্থ ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে পচে যে গ্যাস তৈরি হয় তাকে পকেট গ্যাস বলা হয়।
বর্তমানে শাহবাজপুর গ্যাস ফিল্ড থেকে যে থার্মোজেনিক বা রিজার্ভার গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে তার গভীরতা প্রায় তিন হাজার মিটার বা নয় হাজার ফুট। ওই স্তরে প্রচণ্ড তাপ ও উচ্চচাপের প্রতিক্রিয়ায় প্রকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস মজুত থাকে। সেখানে গ্যাসের চাপ তিন হাজার ৫০০ পিএসআইয়ের ওপরে থাকে। সেই তুলনায় পটুয়াখালীর এই নলকূপ থেকে ওঠা গ্যাসের চাপ একেবারেই নগণ্য।
গ্যাস নিয়ে সাধারণ মানুষকে দুশ্চিন্তা না করার পরামর্শ দিয়েছেন পরিদর্শনকারী কর্মকর্তা। জায়গাটি খোলা আকাশের দিকে উন্মুক্ত রাখতে এবং সেখানে কোনো প্রকার আগুন না জ্বালানোর নির্দেশ দেন তিনি। এটি আস্তে আস্তে বের হতে হতে একসময় নিজে থেকেই সম্পূর্ণ নিঃশেষ হয়ে যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন