সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬,

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার জমজমাট লড়াই

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ১, ২০২৬, ১১:৩৬ পিএম

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার জমজমাট লড়াই

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ২০২৫-২০২৭ চক্রের ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত হয়নি কোনো দলেরই, তবে মাঠের সাম্প্রতিক নাটকীয় ফলাফলে জমে উঠেছে শীর্ষ দুইয়ে থাকার লড়াই।

এক দিনের ব্যবধানে দুটি বড় ম্যাচের ফলাফল পয়েন্ট টেবিলে এনে দিয়েছে আমূল পরিবর্তন।

ঘরের মাঠে সিরিজ নির্ধারণী টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ১৭৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এই জয়ে ২-১ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ নিশ্চিত করার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়াকে হটিয়ে আইসিসি টেস্ট র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষস্থান দখল করেছে প্রোটিয়ারা।

বর্তমানে ১২৪ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে টেস্ট র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, আর ১২২ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেছে অস্ট্রেলিয়া।

দক্ষিণ আফ্রিকার এই ঐতিহাসিক জয়ের ঠিক আগেই ঘরের মাঠে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে আট উইকেটে হেরে পয়েন্ট টেবিলে চরম চাপে পড়েছে টাইগাররা।

২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এই দুটি টেস্টের ফল প্রকাশ হতেই বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় বড় ধরনের রদবদল ঘটে গেছে। অস্ট্রেলিয়া হেরে যাওয়ায় টেবিলের শীর্ষস্থান দখল করেছে নিউজিল্যান্ড। বর্তমানে চ্যাম্পিয়নশিপের নয়টি দলের মধ্যে মাত্র ১০টি টেস্ট সিরিজ বাকি রয়েছে, ফলে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে টিকে থাকতে প্রতিটি দলের জন্য বাকি ম্যাচগুলো অগ্নিপরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা নিউজিল্যান্ডের সামনে এখনও ১০টি টেস্ট ম্যাচ বাকি রয়েছে। তাদের সিরিজগুলো হলো ঘরের মাঠে ভারতের বিপক্ষে দুটি, অস্ট্রেলিয়ায় তাদের বিপক্ষে চারটি, ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুটি এবং পাকিস্তানে স্বাগতিকদের বিপক্ষে দুটি টেস্ট। কেপটাউনে অস্ট্রেলিয়ার হারের পর ৭২ দশমিক ২২ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে কিউইরা। বাকি ১০ টেস্টের মধ্যে ছয়টিতে জিতলে তাদের পয়েন্ট দাঁড়াবে ৬৪ দশমিক ৬ শতাংশে, যা ফাইনাল নিশ্চিত করতে যথেষ্ট নাও হতে পারে। তবে সাতটি জয় ও তিনটি পরাজয়ে চক্র শেষ করতে পারলে পয়েন্ট হবে ৭০ দশমিক ৮৩ শতাংশ, যা তাদের ফাইনালের পথ অনেক সহজ করবে। বিশেষ করে ঘরের মাঠে ভারত ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ দুটি তাদের ভাগ্য নির্ধারণে প্রধান ভূমিকা রাখবে।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জিতে ফাইনালের দৌড়ে সুবিধাজনক অবস্থানে উঠে এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ৭১ দশমিক ৪২ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে প্রোটিয়ারা। তাদের বাকি সাত ম্যাচের পাঁচটিই অনুষ্ঠিত হবে নিজেদের মাটিতে। ঘরের মাঠে বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজে সব কটি ম্যাচ জিততে পারলে তাদের পয়েন্ট ৭১ দশমিক ৪২ শতাংশের ওপরে চলে যাবে। তবে বাকি ম্যাচগুলোর মধ্যে কেবল চারটিতে জিতলে পয়েন্ট নেমে আসবে ৬৪ দশমিক ২৮ শতাংশে, যা ফাইনালের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের আগে ১০ ম্যাচের আটটিতে জিতে ৮০ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে ছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে প্রোটিয়াদের কাছে টানা দুই হারে চলমান চক্রে প্রথমবারের মতো সেরা দুইয়ের বাইরে চলে গেছে তারা। বর্তমানে ৬৯ দশমিক ২৩ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার তিন নম্বরে অবস্থান করছে অজিরা। তাদের বাকি নয় টেস্টের মধ্যে রয়েছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে চারটি এবং ভারতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে পাঁচটি ম্যাচ। বাকি ম্যাচগুলোর মধ্যে অন্তত ছয়টিতে জিতলে তাদের পয়েন্ট হবে ৬৭ দশমিক ২ শতাংশ। কঠিন এই দুটি সিরিজে চারটিতে জয় ও কয়েকটি ড্র নিয়েও তারা ফাইনালে খেলার দৌড়ে টিকে থাকতে পারে।

কলম্বোয় ম্যাচ ড্র করার পর ৫১ দশমিক ৫২ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে ভারত। তাদের বাকি রয়েছে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে দুটি এবং ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাঁচটি টেস্ট। বাকি থাকা সাতটি টেস্টের সব কটিতে জিতলে ভারতের পয়েন্ট পৌঁছাবে ৭০ দশমিক ৩৭ শতাংশে। ছয়টিতে জিতলে পয়েন্ট দাঁড়াবে ৬৫ শতাংশে। তবে পাঁচটি জয় ও একটি ড্র হলে তাদের অন্যান্য দলের ফলাফলের ওপর নির্ভর করতে হবে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ হারলে চাপ বহুগুণ বেড়ে যাবে। এরপর ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়াকে ৫-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করলেও ভারতের পয়েন্ট হবে ৫৯ দশমিক ২৬ শতাংশ, যা ফাইনালে ওঠার পথ কঠিন করে তুলবে।

ঘরের মাঠে দুই টেস্টের সিরিজের প্রথম ম্যাচে হারের তিক্ত স্বাদ পেলেও ৪৭ দশমিক ৬২ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের পঞ্চম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। বাকি ম্যাচগুলোর মধ্যে রয়েছে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট, দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে দুটি এবং ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি টেস্ট। বাকি থাকা পাঁচটি টেস্টের প্রতিটিতে যদি টাইগাররা পূর্ণ জয় তুলে নিতে পারে, তবে পয়েন্ট ৬৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। তবে এর মধ্যে আর মাত্র একটি ম্যাচ হারলেই পয়েন্ট নেমে আসবে ৬১ দশমিক ১১ শতাংশে, যা দিয়ে শীর্ষ দুইয়ে জায়গা নিশ্চিত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।

তালিকায় ৩৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে ছয় নম্বরে রয়েছে শ্রীলঙ্কা। ছয় ম্যাচ খেলা লঙ্কানদের সামনে বাকি রয়েছে পাকিস্তানের মাঠে দুটি, নিউজিল্যান্ডের মাটিতে দুটি এবং ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুটি টেস্ট। ভারতের বিপক্ষে ড্রয়ের সুবাদে তাদের ক্ষীণ আশা বেঁচে রয়েছে। বাকি ছয় টেস্টের সব কটিতে জয় পেলে লঙ্কানদের পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়াবে ৬৬ দশমিক ৬৭ শতাংশে, যা অন্যান্য দলের পয়েন্ট হ্রাসের ওপর নির্ভর করে ফাইনালের সুযোগ তৈরি করতে পারে।