সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬,
সুস্থ জীবনের অভ্যাস

ব্যায়ামের উপকার পেতে পারেন ছোট ছোট দৈনন্দিন নড়াচড়াতেই, বলছে গবেষণা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ১, ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম

ব্যায়ামের উপকার পেতে পারেন ছোট ছোট দৈনন্দিন নড়াচড়াতেই, বলছে গবেষণা

ছবি: Ai

সারাদিন একনাগাড়ে বসে থাকার মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে পরিকল্পিত শরীরচর্চা ছাড়াও দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট নড়াচড়াতেই মিলতে পারে কাঙ্ক্ষিত সুরক্ষা। জিমে যাওয়া বা দৌড়ানোর জন্য আলাদা সময় বের করতে না পারলেও প্রাত্যহিক নানা কাজের ফাঁকে শরীর সক্রিয় রাখলে হৃদ্রোগের ঝুঁকি ও অকালমৃত্যুর আশঙ্কা উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসে।

সিঁড়ি বেয়ে ওঠা, ঘরের সাধারণ কাজকর্ম কিংবা এমনকি বসে থাকার সময় পা নাড়ানোর মতো অভ্যাসও শরীর সচল রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

চিকিৎসাবিজ্ঞান ও শরীরতত্ত্বের ভাষায় ইচ্ছাকৃত ও পরিকল্পিত ব্যায়ামের বাইরে দৈনন্দিন সব ধরনের শারীরিক গতিবিধিকে বলা হয় ইনসিডেন্টাল এক্সারসাইজ বা আকস্মিক নড়াচড়া। এর বৈজ্ঞানিক নাম নন-এক্সারসাইজ অ্যাক্টিভিটি থার্মোজেনেসিস, সংক্ষেপে এনইএটি। ঘুম, আহার এবং ভারী ব্যায়াম বাদ দিয়ে দিনভর নানা সাধারণ কাজে শরীর যে স্বাভাবিক শক্তি ক্ষয় করে, মূলত তা-ই এই প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত।

নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির গবেষক আনান্থা নারায়ানন জানান, একনাগাড়ে চেয়ার বা সোফায় বসে থাকার সময় পা নাড়ানো, কাঁধ ঘোরানো কিংবা ঘন ঘন বসার ভঙ্গি পরিবর্তন করাও এই ক্ষুদ্র নড়াচড়ারই অংশ।

দীর্ঘক্ষণ স্থির বসে থাকলে মানুষের পায়ের পেশিগুলো প্রায় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।

এর ফলে রক্ত থেকে শর্করা বা গ্লুকোজ সরানো এবং সারা শরীরে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে যেসব পেশিসংকোচন, সেগুলোর কার্যকারিতা অনেকটাই থমকে যায়।

তবে বসে থেকে পা নাড়ানো বা হালকা ঝাঁকানোর মাধ্যমেও পেশির এই সক্রিয়তা পুনরায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব। সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, একেবারে স্থির বসে থাকার চেয়ে এ ধরনের মৃদু নড়াচড়াতেই শরীর বেশি ক্যালরি পোড়াতে পারে।

আরেকটি ক্ষুদ্র পরিসরের গবেষণায় নিশ্চিত হওয়া গেছে যে নিয়মিত অভ্যাসবশত পা ঝাঁকালে স্থির অবস্থার তুলনায় প্রায় ১৬ শতাংশ পর্যন্ত বেশি শক্তি ব্যয় হয়।

২০২৪ সালে প্রকাশিত একটি বৃহৎ গবেষণার তথ্য তুলে ধরে বিশেষজ্ঞরা জানান, দিনে মাত্র চার মিনিটের সংক্ষিপ্ত ও তীব্র শারীরিক নড়াচড়াও দীর্ঘ সময় বসে থাকার কারণে তৈরি হওয়া হৃদ্রোগের ঝুঁকি প্রতিরোধে দারুণ সহায়ক হতে পারে।

যুক্তরাজ্যের ২২ হাজারেরও বেশি মানুষের শারীরিক তথ্য ও জীবনযাত্রার চিত্র বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন, দৈনন্দিন এই টুকিটাকি কর্মকাণ্ড দিনে ১১ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে একটানা বসে থাকার কুফল ও চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকটাই সামলে নিতে পারে।

লিফট পরিহার করে হেঁটে সিঁড়ি দিয়ে ওঠা, বাজার করার সময় ভারী ব্যাগ নিজে বহন করা, শিশুদের সঙ্গে ছুটাছুটি করে খেলাধুলা করা কিংবা মুঠোফোনে কথা বলার সময় পায়চারি করার মতো অভ্যাসগুলো স্বাভাবিকভাবেই শরীরে গতিশীলতা এনে দেয়।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, ব্যায়ামাগারে যাওয়ার সুযোগ না থাকলেও দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ছোট সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিয়মিত শরীরকে সচল রাখা অত্যন্ত জরুরি।

তথ্যসূত্র: বিবিসি