রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬,
বিমান বহর আধুনিকায়ন

উড়োজাহাজ কিনতে চুক্তি এখনই জরুরি, সংকটের শঙ্কায় পর্যটনমন্ত্রী

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ১, ২০২৬, ১০:১৪ পিএম

উড়োজাহাজ কিনতে চুক্তি এখনই জরুরি, সংকটের শঙ্কায় পর্যটনমন্ত্রী

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর আধুনিকায়নে ৩৫টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্নের তাগিদ দিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি সতর্ক করেছেন যে এখনই ক্রয়চুক্তি করা না হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এ সংস্থাটি মারাত্মক উড়োজাহাজ সংকটে পড়তে পারে।

রোববার (১ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে মন্ত্রী এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংসদীয় কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী।

বৈঠকে অংশ নিয়ে কমিটির সদস্যরা মন্ত্রণালয়ের সব ধরনের ক্রয়প্রক্রিয়া ও নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।

অতীতের অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, গত ২০ বছর ধরে জবাবদিহির সংস্কৃতি না থাকায় কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ছাড়াই একের পর এক অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার সব ধরনের কেনাকাটায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি উল্লেখ করেন, মন্ত্রণালয়ের কাজে স্বচ্ছতা রক্ষা করতে সংসদীয় কমিটির ভূমিকা অপরিসীম।

বিমান বহর বৃদ্ধির সময়সীমা ব্যাখ্যা করে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, নতুন উড়োজাহাজ কেনার আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই হওয়ার পর সেগুলো তৈরি হয়ে বহরে যুক্ত হতে প্রায় ১০ বছর সময় লেগে যেতে পারে।

অন্যদিকে এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে বর্তমানে চলাচলরত উড়োজাহাজগুলোর একটি বড় অংশ পর্যায়ক্রমে কার্যক্ষমতা হারিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।

এমন পরিস্থিতিতে সময় নষ্ট না করে অবিলম্বে আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে সংস্থাটির পুরো আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ উড্ডয়ন কার্যক্রম বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়বে।

অর্থায়নের কাঠামো স্পষ্ট করে পর্যটনমন্ত্রী দাবি করেন, এসব উড়োজাহাজ কেনার জন্য রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে সরাসরি কোনো অর্থ বরাদ্দ বা ব্যয় করতে হবে না।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স তাদের নিজস্ব বাণিজ্যিক আয় থেকেই পর্যায়ক্রমে এই উড়োজাহাজের পুরো মূল্য পরিশোধ করবে। এ প্রক্রিয়ায় সরকার কেবল ঋণ ও ক্রয়চুক্তির আর্থিক জামিনদার বা গ্যারান্টর হিসেবে আনুষ্ঠানিক ভূমিকা পালন করবে।

বিগত বছরগুলোতে কেনাকাটার নামে সংগৃহীত অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সামগ্রীর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্তের আশ্বাস দেন মন্ত্রী। তিনি জানান, যেকোনো স্তরের আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর রাখা হবে।

এ ছাড়া বৈঠকে বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের সরকারি মহাপরিকল্পনা তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, এই প্রকল্পটির জন্য প্রায় দুই হাজার একর ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে। সেখানে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ আন্তর্জাতিক মানের বড় আকারের উড়োজাহাজ নির্বিঘ্নে ওঠানামার উপযোগী দীর্ঘ রানওয়ে নির্মাণের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।

উক্ত বৈঠকে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা ছাড়াও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।