রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬,
ইসলাম ও জীবন

ইচ্ছাকৃত নামাজ কাজা করলে ক্ষমা পাওয়ার উপায় ও শরিয়তের বিধান

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ১, ২০২৬, ১০:০৪ পিএম

ইচ্ছাকৃত নামাজ কাজা করলে ক্ষমা পাওয়ার উপায় ও শরিয়তের বিধান

দৈনন্দিন ব্যস্ততা কিংবা অলসতার কারণে অনেকেরই নামাজের নির্দিষ্ট ওয়াক্ত পেরিয়ে যায়। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে সময় পার করে নিয়মিত নামাজ কাজা করা অত্যন্ত মারাত্মক গুনাহের কাজ। এমন আচরণে অনুতপ্ত হয়ে ফিরে এলে আল্লাহর দরবারে ক্ষমার সুযোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা রয়েছে পবিত্র কুরআন ও হাদিসে।

ইসলামের মৌলিক বিধান অনুযায়ী, নামাজ হলো বান্দার সঙ্গে মহান আল্লাহর সরাসরি সংযোগের অন্যতম মাধ্যম। পবিত্র কুরআনের সুরা আন-নিসার ১০৩ নম্বর আয়াতে নির্দিষ্ট সময়ে নামাজ আদায়ের নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে, নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ করা হয়েছে।

ফলে ওয়াক্তমতো নামাজ আদায় না করে ইচ্ছাকৃতভাবে পিছিয়ে দেওয়া ইসলামের দৃষ্টিতে কবিরা গুনাহ বা মারাত্মক অপরাধ।

হাদিস শরিফে ওয়াক্তমতো নামাজ না পড়ার ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। সহিহ মুসলিমের ১৪৭ নম্বর হাদিসে হজরত বুরায়দা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন যে ব্যক্তি এবং কুফরি ও শিরকের মধ্যে পার্থক্য হলো নামাজ ছেড়ে দেওয়া।

ইসলামিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নামাজ অস্বীকার করে ছেড়ে দেওয়া যেমন সরাসরি কুফরি, তেমনি আলস্যবশত নিয়মিত অবহেলা করাও আত্মিক ধ্বংসের পথ উন্মুক্ত করে।

ভুল বা গুনাহ যত বড়ই হোক না কেন, আল্লাহর রহমতের দরজা সব সময় খোলা থাকে। পবিত্র কুরআনের সুরা আয-যুমারের ৫৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, বলুন, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের ওপর বাড়াবাড়ি করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

তবে কেবল মৌখিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনায় তওবা পূর্ণাঙ্গ হয় না।

শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, প্রকৃত তওবার জন্য অতীতের ভুলের ব্যাপারে মন থেকে চরম অনুতপ্ত হতে হবে। ভবিষ্যতে আর কখনো ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ না ছাড়ার দৃঢ় সংকল্প করতে হবে এবং অবিলম্বে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নিয়মিত শুরু করতে হবে। একই সঙ্গে অতীতের ছুটে যাওয়া নামাজগুলোর হিসাব করে কাজা আদায় করাও জরুরি।

সহিহ মুসলিমের ৬৮৪ নম্বর হাদিসে হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি নামাজ পড়তে ভুলে যায় কিংবা ঘুমিয়ে পড়ে, তার কাফফারা হলো যখনই মনে পড়বে তখনই তা আদায় করে নেওয়া।

যদিও এই নির্দেশনাটি অনিচ্ছাকৃত ভুলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তবে আলেমদের সম্মিলিত মত অনুযায়ী, যিনি ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ ছেড়ে দিয়েছেন তাকেও তওবা করার পাশাপাশি ছুটে যাওয়া ওয়াক্তগুলোর কাজা সম্পন্ন করতে হবে।