বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬,
মানবতার চিরন্তন মুক্তিদূত

মহানবী সা.-এর জীবনাদর্শ ও বিশ্ব মনীষীদের দৃষ্টিতে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৯, ২০২৬, ১০:৪৮ এএম

মহানবী সা.-এর জীবনাদর্শ ও বিশ্ব মনীষীদের দৃষ্টিতে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব

মহান আল্লাহর সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ রসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে স্বয়ং স্রষ্টা বিশ্বজগতের জন্য রহমত বা রাহমাতুল্লিল আলামিন হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তিনি এমন এক কালপর্বে পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছিলেন, যখন তৎকালীন সমাজ অন্যায়, অবিচার ও নৈতিক অবক্ষয়ের ঘোর অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল।

জাহেলিয়াতের অন্ধকার দূর করে তিনি মানবতার মুক্তির দিশা দেখিয়েছেন।

ঐতিহাসিক মুরের পর্যালোচনায় মহানবী (সা.) ছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মনীষী। তাঁর সমকালীন আরব সমাজে সংঘাত ও হানাহানি যখন সাধারণ প্রাত্যহিক চিত্র ছিল, তখন তিনি সততা ও আমানতদারির উজ্জ্বল প্রতীক হয়ে ওঠেন। সেই তরুণ বয়স থেকেই তাঁর চারিত্রিক নির্মলতার কারণে সমকালীন সমাজ তাঁকে একবাক্যে আল আমিন বা পরম বিশ্বস্ত উপাধিতে ভূষিত করেছিল।

তিনি কেবল ধর্ম প্রচারেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং গোত্রীয় দ্বন্দ্বে লিপ্ত জাতিকে একতাবদ্ধ করে একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ সমাজের ভিত্তি স্থাপন করেন। শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সঙ্গে তাঁর সম্পাদিত সন্ধি-চুক্তি এবং আত্মরক্ষা ছাড়া যুদ্ধ পরিহারের নীতি আজও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে অনুসরণীয়। এমনকি সংঘাতের অনিবার্য মুহূর্তেও নারী, শিশু ও বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করার যে সুস্পষ্ট বিধান তিনি দিয়েছিলেন, তা একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক যুদ্ধনীতিতেও অতুলনীয় দৃষ্টান্ত।

কুরাইশদের সম্ভ্রান্ত নেতা ও কাবা গৃহের খাদেম আবদুল মুত্তালিবের নাতি হওয়া সত্ত্বেও সত্যের বাণী প্রচার করতে গিয়ে তাঁকে অবর্ণনীয় নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। নিজের ও অনুসারীদের প্রাণ বাঁচাতে প্রিয় মাতৃভূমি মক্কা ছেড়ে তিনি মদিনায় হিজরত করতে বাধ্য হন। কিন্তু মক্কার অপশক্তি সেখানেও বারবার আক্রমণ চালিয়েছে। পরিশেষে মুসলমানদের নিয়ে রক্তপাতহীন বিজয়ের মাধ্যমে তিনি মক্কায় পুনঃপ্রবেশ করেন।

বিজয়ীর বেশে ফিরে এসে দীর্ঘ দেড় দশক ধরে অমানুষিক নির্যাতনকারীদের প্রতি যে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিলেন, তা বিশ্ব ইতিহাসে বিরল। ঐতিহাসিক স্টেনলি লেনপুল তার স্টাডিজ ইন মক্কা গ্রন্থে লিখেছেন, যে নগরীতে দীর্ঘ ১৫টি বছর তিনি চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন এবং যেখান থেকে তিনি নির্মমভাবে বিতাড়িত হয়েছিলেন, সেই শহরে তাঁর এই ক্ষমাপূর্ণ বিজয় যেমন চমকপ্রদ, তেমনি অকল্পনীয়।

মহানবী (সা.)-এর সুমহান ব্যক্তিত্ব অমুসলিম চিন্তাবিদদের কাছেও পরম শ্রদ্ধার পাত্র হয়েছে। প্রখ্যাত সাহিত্যিক জর্জ বার্নার্ড শ তার দ্য জেনুইন ইসলাম গ্রন্থে উল্লেখ করেন, এই অসাধারণ ধর্মের জীবনীশক্তি পরিবর্তনশীল পৃথিবীর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে অনন্য। তিনি রসুল (সা.)-কে মানবজাতির ত্রাণকর্তা আখ্যা দিয়ে লেখেন, বর্তমান বিশ্বের নেতৃত্ব যদি তাঁর মতো কোনো ব্যক্তিত্বের হাতে থাকত, তবে তিনি পৃথিবীর সমস্ত জটিল সমস্যার এমন শান্তিপূর্ণ সমাধান দিতে পারতেন, যা বিশ্বে অনাবিল সুখ বয়ে আনত।

একইভাবে ১৮৪০ সালে এডিনবার্গের এক ঐতিহাসিক সমাবেশে মহামতি কার্লাইল ঘোষণা করেছিলেন, সমগ্র মানবজাতি এবং ঈশ্বরপ্রেরিত দূতদের মধ্যে সর্বোচ্চ নেতৃত্বের অনন্য আসনে সমাসীন সুদূর আরবের পথপ্রদর্শক নবী মুহাম্মদ (সা.)।