রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬,

১৩ সিটি কর্পোরেশনে ই-রিকশার নিবন্ধন শুরু হচ্ছে সোমবার থেকে

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ১, ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম

১৩ সিটি কর্পোরেশনে ই-রিকশার নিবন্ধন শুরু হচ্ছে সোমবার থেকে

দেশের ১৩টি সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত স্বল্পগতির তিন চাকার যানের বৈধতা দিতে সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে ই-রিকশার আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন কার্যক্রম। রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

‍‍`সিটি কর্পোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬‍‍` প্রণয়ন উপলক্ষে এই ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিমন্ত্রী জানান, রাজধানী ঢাকায় শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনকে মিলিয়ে মোট আটটি প্রশাসনিক জোনে ভাগ করে যান চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এক জোনের রিকশা যেন অন্য জোনে ঢুকতে না পারে, সেজন্য জোনভেদে ই-রিকশার আটটি ভিন্ন রং নির্ধারণ করা থাকবে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় ঠিক কতটি রিকশা চলাচলের অনুমতি পাবে, তা স্থানীয় ট্রাফিক বিভাগ ও দুই সিটি কর্পোরেশন যৌথ আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করবে।

নতুন নীতিমালায় নিবন্ধন ও নবায়ন ফি সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করেছে সরকার।

দুইজন যাত্রী ধারণক্ষমতার একটি ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি ধরা হয়েছে আট হাজার টাকা এবং প্রতি বছর নবায়ন ফি দিতে হবে চার হাজার টাকা। অন্যদিকে চারজন যাত্রী ধারণক্ষমতার যানের ক্ষেত্রে এককালীন নিবন্ধন ফি দশ হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি পাঁচ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্রধারী একজন ব্যক্তি নিজের নামে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশার মালিকানা নিবন্ধন করতে পারবেন।

নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্নের সুনির্দিষ্ট কোনো চূড়ান্ত সময়সীমা এখনই বেঁধে দেওয়া হচ্ছে না।

মীর শাহে আলম জানান, কার্যক্রম চালুর এক মাস পর সাংবাদিকদের সঙ্গে পুনরায় বসে অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে এবং তখন কতটি যান নিবন্ধিত হয়েছে ও অবৈধ রিকশা অপসারণে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা তুলে ধরা হবে।

নিরাপত্তা ও গতি নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি ই-রিকশায় স্পিডোমিটার স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

সাধারণ সড়কে অনুমোদিত ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতিসীমা থাকবে ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার। তবে বিদ্যালয়, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় এবং জনবহুল এলাকা অতিক্রমের সময় সর্বোচ্চ গতি কোনোভাবেই ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটারের বেশি হতে পারবে না।

প্রতিটি ই-রিকশার অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল বা ইকোনমিক লাইফ টাইম নিবন্ধনের দিন থেকে সর্বোচ্চ ১২ বছর পর্যন্ত নির্ধারিত থাকবে।

বর্তমানে চলাচলরত চালক ও মালিকদের আশ্বস্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাস্তায় থাকা রিকশা এখনই হঠাৎ করে বন্ধ করে দেওয়া হবে না, তাই মালিকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে বৈধ কিংবা অবৈধ সব রিকশাই চলাচল করতে পারবে। পর্যায়ক্রমে বৈধগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে এবং অনিবন্ধিত অবৈধ রিকশা রাস্তা থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে।

একই সাথে চালকদের প্রাতিষ্ঠানিক ড্রাইভিং লাইসেন্স গ্রহণ তাৎক্ষণিকভাবে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে না। নিবন্ধন প্রক্রিয়া কিছুটা এগিয়ে যাওয়ার পর আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করে চালকদের ধাপে ধাপে ড্রাইভিং লাইসেন্সের আওতায় আনবে কর্তৃপক্ষ।

বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও অবৈধ চার্জিং ঠেকাতে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

ই-রিকশার ব্যাটারি কেবল অনুমোদিত চার্জিং স্টেশন থেকেই চার্জ করতে হবে এবং নির্দিষ্ট স্থানগুলোতে চার্জিং স্টেশন স্থাপনের সরকারি অনুমোদন দেওয়া হবে। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে চার্জিং ব্যবস্থা স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দেবে মন্ত্রণালয়। অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের ধরতে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবেন।

নিবন্ধন পেতে হলে বিদ্যমান রিকশাগুলোকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী পরিবর্তন করে নিতে হবে। নতুন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও বুয়েটের এই সুনির্দিষ্ট ডিজাইন অনুসরণ করে যানবাহন তৈরি করতে হবে।

দীর্ঘদিন ধরে চলা আইনি শূন্যতার কথা স্মরণ করিয়ে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, অতীতে কোনো ধরনের আইনি কাঠামো ছাড়াই এই যানগুলো চলাচল করত। সম্প্রতি সিটি কর্পোরেশন আইন, ২০০৯ সংশোধনের মাধ্যমে এ সংক্রান্ত আইনি ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে এবং সেই আইনের ১২০ ধারার প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার এই নতুন পূর্ণাঙ্গ বিধিমালা জারি করেছে।