রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬,
নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন

১১ বছর পর অবশেষে নতুন স্কেলে বেতন পেলেন সরকারি চাকরিজীবীরা

জাতীয় ডেস্ক

নভেম্বর ১, ২০২৬, ০৭:১২ পিএম

১১ বছর পর অবশেষে নতুন স্কেলে বেতন পেলেন সরকারি চাকরিজীবীরা

দীর্ঘ এগারো বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো অনুযায়ী অক্টোবর মাসের নিয়মিত বেতনের পাশাপাশি তিন মাসের বকেয়া অর্থ হাতে পেয়েছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। রোববার (১ নভেম্বর) সকালে দেশের প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আট লাখ পেনশনভোগীর ব্যাংক হিসাবে এই বর্ধিত অর্থ জমা হয়।

অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের বকেয়া যোগ হওয়ায় কর্মীদের মধ্যে দৃশ্যমান স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে।

অর্থ বিভাগের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, গত ২৫ অক্টোবরের মধ্যে যাদের পে ফিক্সেশন বা আনুষ্ঠানিক বেতন নির্ধারণ প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে, তারাই প্রথম ধাপে এই আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন। তবে সার্ভার জটিলতা বা প্রযুক্তিগত কারণে যাদের পে ফিক্সেশন প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হতে পারেনি, তাদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই তারাও বকেয়াসহ সম্পূর্ণ বেতন তুলতে পারবেন।

একই সঙ্গে দেশের প্রায় ছয় লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীকেও নতুন কাঠামোয় বেতনভুক্ত করার প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বর্তমানে পুরোদমে চলমান রয়েছে।

তবে নতুন এই বেতনকাঠামো কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু বাস্তবিক প্রশাসনিক জটিলতাও সামনে এসেছে।

বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অসংখ্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে চাকরির জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ, গ্রেডের পারম্পরিক ক্রম এবং বাড়িভাড়া ভাতার বিভাজন নিয়ে অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে। নতুন নিয়মে পদোন্নতি পাওয়ার পরও সামগ্রিক আর্থিক সুবিধা কমে যাওয়া কিংবা কাঙ্ক্ষিত আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে অনেকের মাঝে। এই সংকট সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন দপ্তর থেকে অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের কাছে লিখিত আবেদন পাঠানো হয়েছে। অর্থ বিভাগ সূত্র নিশ্চিত করেছে যে এসব অসঙ্গতি দূর করতে উচ্চপর্যায়ে কাজ চলছে।

এর আগে দীর্ঘ পর্যালোচনার পর গত ১৭ সেপ্টেম্বর নতুন জাতীয় পে স্কেলের আনুষ্ঠানিক সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়, যা চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ঘোষণা করা হয়।

বিদ্যমান ২০টি গ্রেড কাঠামো বহাল রেখেই প্রণীত এই পে স্কেলে ১ থেকে ১১ নম্বর গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। অন্যদিকে তুলনামূলক নিম্ন আয়ের ১২ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন ১১৫ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

পুরো অর্থনৈতিক চাপ সামাল দিতে সরকার এই বর্ধিত বেতন কয়েকটি ধাপে বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

নির্ধারিত কাঠামো অনুযায়ী, প্রথম ধাপে গত ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা বর্ধিত বেতনের ৪০ শতাংশ এবং ১০ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ হারে বাড়তি মূল বেতন সুবিধা ভোগ করছেন। পরবর্তীতে ২০২৭ ও ২০২৮ সালের বিভিন্ন নির্দিষ্ট ধাপে এই বেতনকাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট সব ভাতার শতভাগ বাস্তবায়ন সম্পন্ন করা হবে।