নভেম্বর ১, ২০২৬, ০৮:০২ পিএম
ভারতের ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সম্পূর্ণ অবৈধ আখ্যা দিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরিয়ে কারাগারে পাঠানোর প্রকাশ্য হুঁশিয়ারি দিয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। রোববার (১ নভেম্বর) রাজধানী নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে বিরোধী দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত ইন্ডিয়া জোটের এক বিশাল গণসমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন।
সমাবেশে তিনি সরাসরি অভিযোগ তোলেন যে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন ও ভোটার তালিকায় বড় ধরনের কারসাজি করে ওই নির্বাচনে জনরায় চুরি করা হয়েছে।
হাজারো নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে রাহুল গান্ধী বলেন, এই ঘটনা সাধারণ কোনো ভোট চুরি নয়, বরং এটি ভারতের প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক কণ্ঠস্বর চুরি করার শামিল। তিনি একে সরাসরি রাষ্ট্রদ্রোহের সঙ্গে তুলনা করে দাবি করেন যে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের যোগসাজশ না থাকলে নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী কিংবা অমিত শাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারতেন না।
নির্বাচন-পরবর্তী পরিসংখ্যানের সূত্র টেনে তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর দেশের প্রায় ১৫ শতাংশ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
অথচ ওই নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের সঙ্গে বিরোধী জোটের সামগ্রিক ভোটের ব্যবধান ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যের ভেতরেই এই কারচুপির প্রমাণ লুকিয়ে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অতীতে করোনাভাইরাস মহামারির প্রভাব নিয়ে নিজের বক্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন, জ্ঞানেশ কুমারকে নির্বাচন কমিশনের প্রধানের পদ ছাড়তেই হবে এবং শেষ পর্যন্ত তাকে জেলে যেতে হবে।
শিক্ষাব্যবস্থা থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলো পর্যন্ত দেশের প্রায় প্রতিটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এখন কট্টর ডানপন্থি সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয়করণের কারণেই কৃষক, শ্রমিক ও প্রান্তিক যুবসমাজ তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। হিন্দু পুরাণের রূপক টেনে তিনি বলেন, যেমন শিবের বিয়ের মিছিলে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার প্রবেশের অধিকার থাকে, বিরোধীরাও ভারতে এমন একটি উন্মুক্ত ও নিরপেক্ষ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে চায়। বিজেপি টাকার জোরে সংবিধানের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে চাইছে বলেও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সমাবেশে কংগ্রেসের জাতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অবিলম্বে ক্ষমতা থেকে সরানোর জোরালো ডাক দেন।
খাড়গে অভিযোগ করে বলেন, কেন্দ্রের বর্তমান সরকার ছাড়াও মহারাষ্ট্র, বিহার ও উত্তর প্রদেশের রাজ্য সরকারগুলোও ভোট চুরির মাধ্যমে ক্ষমতায় বসে রয়েছে। দেশের গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে হলে এই চোরদের ক্ষমতা থেকে হটাতে হবে এবং মোদি সরে গেলেই কেবল ভারতে প্রকৃত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হবে বলে তিনি দাবি করেন।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে এই `চলো দিল্লি` কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রা এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবসহ শীর্ষস্থানীয় বিরোধী নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে মিছিলটি মিন্টো রোড ও কনট প্লেস মোড় অতিক্রম করে রামলীলা ময়দানে প্রবেশ করে। এর ধারাবাহিকতায় গত ৩১ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে প্রতীকী অভিশংসন কর্মসূচি পালন করেছিল বিরোধীরা।
অন্যদিকে বিরোধীদের এই আন্দোলনের তীব্র সমালোচনা করে পাল্টা মাঠে নেমেছে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি।
রোববার হরিয়ানার ফরিদাবাদে বিজেপির `গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও` শীর্ষক এক পদযাত্রায় অংশ নিয়ে দলটির শীর্ষ নেতা ও সংসদ সদস্য ধর্মেন্দ্র প্রধান অভিযোগ করেন যে কংগ্রেস ও বিরোধী দলগুলো দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সম্পূর্ণ আস্থা হারিয়ে পরিকল্পিত নৈরাজ্য ছড়াচ্ছে। পদযাত্রায় কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী কৃষ্ণ পাল গুর্জর, প্রতিমন্ত্রী রাজেশ নগর ও হরিয়ানার ক্রীড়ামন্ত্রী গৌরব গৌতম অংশ নেন।
এছাড়া গোয়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত বলেন, ভোটার তালিকা সংশোধন একটি নিয়মিত সাংবিধানিক প্রক্রিয়া, যা গণতন্ত্রকে আরও সুসংহত করে। সরকারের নীতির সমালোচনা করার অধিকার সবার থাকলেও নিছক সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে তিনি দাবি করেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন