রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬,
কূটনৈতিক সাফল্য

এলডিসি উত্তরণ পেছানো বড় কূটনৈতিক সাফল্য বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

নভেম্বর ১, ২০২৬, ০৯:০২ পিএম

এলডিসি উত্তরণ পেছানো বড় কূটনৈতিক সাফল্য বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর পিছিয়ে নেওয়াকে বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। সরকার গঠনের মাত্র আট মাসের মধ্যে এ অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি জানান, সময়সীমা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সফলভাবে বোঝাতে পেরেছে বাংলাদেশ।

অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডায় কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের বৈঠকে যোগ দিতে যাওয়ার আগে আজ রোববার এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা তুলে ধরেন। মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে ১ থেকে ৪ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় চার দিনব্যাপী এই সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি।

গত ২৯ অক্টোবর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এক পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে বাংলাদেশ ও নেপালের উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। এ সিদ্ধান্তের ফলে এলডিসি থেকে বাংলাদেশের চূড়ান্ত উত্তরণের প্রস্তুতিকাল ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ল।

অধিবেশনের শুরুতে জি-৭৭-এর পক্ষে উরুগুয়ের প্রতিনিধি দুই দেশের সময়সীমা তিন বছর বাড়ানোর প্রস্তাবসংবলিত খসড়া উত্থাপন করেন। কোনো সদস্যরাষ্ট্রের আপত্তি ছাড়াই সর্বসম্মতিক্রমে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। সে সময় ফ্রান্স, কানাডা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষে আয়ারল্যান্ডের প্রতিনিধিরা প্রস্তাবের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর বাড়ানোর আবেদন করে। আবেদনে তুলে ধরা হয়, সামষ্টিক অর্থনীতি স্থিতিশীল করা, চলমান সংস্কার কার্যক্রম সুসংহত করা এবং মসৃণ উত্তরণ কৌশলের আওতায় অগ্রাধিকারমূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় নীতিগত সুযোগ তৈরির জন্য অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন।

আগের পাঁচ বছরের মূল প্রস্তুতিকাল অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ধারাবাহিক সংকটের কারণে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছিল।

সংকটের ফলে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়। সময় বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের কাঠামোগত অর্থনৈতিক দুর্বলতা মোকাবিলা, রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো এবং এলডিসি মর্যাদার সঙ্গে যুক্ত আন্তর্জাতিক সহায়তা ধীরে ধীরে প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নেওয়ার পথ সুগম হবে।

এর আগে গত ২১ জুলাই জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ সাধারণ পরিষদে বিষয়টি বিবেচনার আনুষ্ঠানিক সুপারিশ পাঠায়। জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটির পর্যালোচনার পরই ওই সুপারিশ করা হয়েছিল। কমিটি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিল যে বাংলাদেশ ও নেপালের আবেদন বিবেচনার যথেষ্ট যৌক্তিকতা রয়েছে।

অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করা ও টেকসইভাবে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের জন্য এই বাড়তি সময় অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে।