নভেম্বর ১, ২০২৬, ০৫:৪৪ পিএম
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার কট্টরপন্থি জোট সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য গড়ার দাবিতে তেল আবিবের রাজপথে নেমেছেন হাজারো নাগরিক।
রোববার (১ নভেম্বর) রাজধানী তেল আবিবে অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের বক্তব্য ছিল অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট। তারা বিরোধী দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে বর্তমান পার্লামেন্টে নেতানিয়াহুকে হটাতে প্রয়োজনীয় ৬৭টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা পুরোপুরি সম্ভব।
এই ৬৭ আসনের সমীকরণে অন্যতম প্রধান ভিত্তি ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী আরব দলগুলোর ঐতিহাসিক ১৯টি আসন।
বিরোধী শিবিরের অন্যতম প্রধান নেতা ও ইয়াশার পার্টির শীর্ষ ব্যক্তিত্ব গাদি আইজেনকোট এতদিন পর্যন্ত সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় আরব দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা কিংবা তাদের সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে দৃশ্যমান অনাগ্রহ দেখিয়ে আসছিলেন। তবে ঘোষিত নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী, নেতানিয়াহু কিংবা তার ক্ষমতাসীন জোটের শরিকদের সঙ্গে সরকারে না যাওয়ার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে অটল থাকতে হলে আইজেনকোটকে শেষ পর্যন্ত এসব আরব দলের শরণাপন্ন হতে হবে।
তেল আবিবের সমাবেশস্থলে বেশ আবেগঘন ও উত্তপ্ত পরিবেশ তৈরি হয়।
ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে পরিবর্তনের পক্ষে মত দেওয়া সাধারণ ইসরায়েলিরা এবার সেই রায়ের বাস্তবায়ন প্রত্যক্ষ করতে চাইছেন। সমাবেশে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীদের অভিমত, রাজনৈতিক পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে গাদি আইজেনকোটসহ অন্যান্য ইহুদি দলগুলোর নেতাদের জনগণের এই জোরালো প্রত্যাশাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
এর বিপরীতে নেতানিয়াহুর ডানপন্থি সমর্থকগোষ্ঠীও পাল্টা মিছিল ও বিক্ষোভের আয়োজন করে।
সেখান থেকে কট্টরপন্থিরা স্লোগান তুলে দাবি জানান যে দেশের শাসনভার পরিচালনায় কথিত চরমপন্থিদের কোনোভাবেই সরকারের অংশ করা যাবে না। ডানপন্থি রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে আরব ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণকে চরম বিতর্কের চোখে দেখা হচ্ছে। ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের এই রেকর্ড নির্বাচনী উপস্থিতিকে বিরোধী শিবিরের একাংশ নির্বাচনকেন্দ্রিক আক্রমণ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর সঙ্গে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের প্রেক্ষাপট টেনে বিতর্ক সৃষ্টি করছে।
সার্বিকভাবে ইসরায়েলের আসন্ন রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি নির্ধারণের কেন্দ্রে এখন অবস্থান করছে ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলিদের রাজনৈতিক অবস্থান।
নতুন সরকার গঠনের জন্য বিরোধী নেতা আইজেনকোট প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারবেন কি না, তা সম্পূর্ণভাবে ঝুলে রয়েছে আরব দলগুলোর আনুষ্ঠানিক সমর্থনের ওপর।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন