রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬,
ই-রিকশা নতুন নীতিমালা

এক অটোরিকশায় চারজনের বেশি যাত্রী নয়, বাধ্যতামূলক হচ্ছে কিউআর কোড

জাতীয় ডেস্ক

নভেম্বর ১, ২০২৬, ০৬:১১ পিএম

এক অটোরিকশায় চারজনের বেশি যাত্রী নয়, বাধ্যতামূলক হচ্ছে কিউআর কোড

রাজধানীসহ সারাদেশে চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় দুই থেকে সর্বোচ্চ চারজনের বেশি যাত্রী পরিবহন করা যাবে না বলে জানিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রতিটি অটোরিকশায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া কোড বা কিউআর কোডযুক্ত নম্বরপ্লেট সংযোজন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী একজন ব্যক্তি নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে সর্বোচ্চ পাঁচটি অটোরিকশার মালিকানা নিবন্ধন করতে পারবেন। এর বেশি গাড়ির নিবন্ধন কোনো একক ব্যক্তির নামে বরাদ্দ হবে না। চারজন যাত্রী ধারণক্ষমতার প্রতিটি ই-রিকশার নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার টাকা। প্রতি বছর নির্দিষ্ট নবায়ন সাপেক্ষে একটি অটোরিকশা সর্বোচ্চ ১২ বছর পর্যন্ত চলাচলের সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে প্রতিটি যানের সর্বোচ্চ গতিসীমাও নির্দিষ্ট করে দেবে সরকার।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে এলাকাভিত্তিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মিলিয়ে চারটি করে মোট আটটি নির্দিষ্ট অঞ্চল গঠন করা হবে। শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রতিটি অঞ্চলের ই-রিকশার জন্য আলাদা রং নির্ধারণ থাকবে। কোন অঞ্চলে ঠিক কতটি রিকশা চলবে, তা সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ ও ট্রাফিক বিভাগের সমন্বয়ে নির্ধারণ করা হবে।

নিবন্ধনের সংখ্যায় আপাতত কোনো নির্দিষ্ট কোটা না থাকলেও গাড়ি চলাচলের জন্য কাঠামোগত শর্ত বহাল রাখা হয়েছে।

বর্তমানে রাস্তায় চলাচলকারী রিকশাগুলোকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী কাঠামো রূপান্তর করেই কেবল নিবন্ধনের আবেদন করতে হবে। এক সিটি করপোরেশনের আওতায় নিবন্ধিত কোনো ই-রিকশা অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে চালানো সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ থাকবে।

চালকদের প্রাতিষ্ঠানিক লাইসেন্স প্রক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর না করার ব্যাখ্যা দেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি উল্লেখ করেন, লাখ লাখ চালককে একসঙ্গে ড্রাইভিং লাইসেন্স দিতে গেলে সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে। এ কারণে আগে যানবাহনের নিবন্ধন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। পরবর্তীতে আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করে চালকদের সরাসরি ড্রাইভিং লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে সংশ্লিষ্ট রিকশার মালিকরাই চালকদের অনুকূলে বৈধ পরিচয়পত্র প্রদান করবেন।