নভেম্বর ১, ২০২৬, ০৫:২৮ পিএম
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে টেকসই ও মসৃণ উত্তরণ নিশ্চিত করতে পাঁচ পক্ষকে সম্পৃক্ত করে ব্যাপক অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। রোববার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
এই প্রক্রিয়ায় দেশের জনগণ, বেসরকারি খাত, জাতিসংঘ, উন্নয়ন সহযোগী এবং আন্তর্জাতিক বহুপক্ষীয় সংস্থাকে সরাসরি অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন যে উত্তরণের জন্য প্রাপ্ত বাড়তি সময়কে সরকার নিছক সময়ক্ষেপণ হিসেবে দেখছে না। বরং একে অভ্যন্তরীণ উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, কাঠামোগত রূপান্তর, নতুন বৈশ্বিক বাজার সৃষ্টি এবং দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের টেকসই সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রস্তুতির মেয়াদ বাড়ানোর পেছনে তিনটি প্রধান বাস্তবতার কথা তুলে ধরেন তিনি।
এগুলো হলো উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া দুর্বল অর্থনীতির কারণে তৈরি হওয়া অভ্যন্তরীণ ভঙ্গুরতা, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের বাহ্যিক চাপ ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং এসব সংকট মোকাবিলায় অতীতে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকা। তবে সরকার শুরু থেকেই এলডিসি উত্তরণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সংস্কারের অগ্রাধিকার ক্ষেত্র হিসেবে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে বিনিয়োগের অর্থায়ন নিশ্চিত করাকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, নতুন বাজার অনুসন্ধান ও রপ্তানি বহুমুখীকরণে জোর দেওয়া হচ্ছে। এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা কমে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ সামাল দিতে বিভিন্ন বাণিজ্যিক অংশীদারদের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) অথবা সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সেপা) করার প্রস্তুতি চলছে।
বেসরকারি খাতের কার্যকর অংশগ্রহণকে সরকারের `থ্রি-আর` কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বর্ণনা করেন ড. তিতুমীর।
তিনি জানান, জাতিসংঘের সর্বসম্মত প্রস্তাব অনুযায়ী সংস্থাটির আবাসিক সমন্বয়কের নেতৃত্বে সব ধরনের কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া সরকারের অগ্রাধিকার সংস্কার কর্মসূচিতে সহায়তা নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি) এবং ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইএসডিবি)।
জ্বালানি খাতে মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করে প্রধান হাব গড়ে তোলার পাশাপাশি সারা দেশে সরবরাহ অবকাঠামো সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সক্ষমতা বাড়াতে ভাসমান টার্মিনালের পাশাপাশি নতুন করে স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আমদানির উৎস বহুমুখী করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ দেশের অন্যান্য প্রান্তে অবকাঠামো ছড়িয়ে দিয়ে আঞ্চলিক ভারসাম্যপূর্ণ শিল্পায়ন গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছে সরকার।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন