সোমবার, ০৫ অক্টোবর, ২০২৬,

রপ্তানি বাড়াতে সরকারের নতুন ছক

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৫, ২০২৬, ০৯:৫৭ এএম

রপ্তানি বাড়াতে সরকারের নতুন ছক

দেশের রপ্তানি খাতকে আরো গতিশীল, টেকসই ও বহুমুখী করতে নতুন সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এককভাবে তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বৈশ্বিক বাজারে অন্যান্য পণ্যের প্রবেশাধিকার সহজ করতে চিহ্নিত করা হয়েছে ১৮টি সম্ভাবনাময় দেশের বাজার। প্রতিটি দেশের নিজস্ব চাহিদা, পণ্যের সম্ভাবনা, বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা ও প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর বাজার দখল বিশ্লেষণ করে আলাদা আলাদা রপ্তানি কৌশলপত্র তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের কর্মশালায় এই কৌশলগত রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিজিএমইএ, ফ্লেক্সা, সিপিডি, ওয়ালটন গ্রুপ, বাংলাদেশ এগ্রোপ্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন এবং ফার্মাসিউটিক্যালস খাতের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শিল্প ও বাণিজ্যিক সংগঠনের নেতারা অংশ নিয়ে তাদের প্রস্তাব তুলে ধরেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরাও আলোচনায় অংশ নেন।

চিহ্নিত ১৮টি দেশের মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, মালয়েশিয়া, জাপান, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরান, তুরস্ক, কানাডা, ব্রাজিল, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও রাশিয়া। এসব বাজারে তৈরি পোশাকের বাইরে ওষুধ, আসবাবপত্র, খেলনা, বাইসাইকেল, রেফ্রিজারেটর, জুতা, চা, ফলমূল, শাকসবজি, ইলেকট্রনিকস, চামড়াজাত পণ্য, খাদ্য প্রক্রিয়াজাত পণ্য, হালাল খাদ্য, উচ্চমূল্যের বিশেষ পোশাক, মাছ, পাট ও পাটজাত পণ্য, সিরামিকস এবং প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানির সুযোগ তৈরি করা হবে।

এসব দেশের বাজারে নিযুক্ত বাংলাদেশের ইকোনমিক মিনিস্টার ও কমার্শিয়াল কাউন্সিলরদের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে বাজারভিত্তিক চিত্র ও প্রতিদ্বন্দ্বীদের অবস্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, লক্ষ্যভুক্ত ১৮টি দেশের সবগুলোতেই সবচেয়ে বড় পরিসরে পণ্য সরবরাহ করে চীন। এছাড়া ভিয়েতনাম ১৪টিতে, ভারত ১১টিতে, ইতালি ৮টিতে, তুরস্ক ৭টিতে, ইন্দোনেশিয়া ৬টিতে এবং কম্বোডিয়া ও জার্মানি ৫টি করে দেশে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে।

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশের চূড়ান্ত উত্তরণের পর অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা সংকুচিত হওয়ার যে ঝুঁকি তৈরি হবে, তা সামাল দিতেই এই অগ্রিম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে দ্বিপক্ষীয় অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্যচুক্তি, সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি স্বাক্ষর, বন্দর সক্ষমতা বাড়ানো এবং শুল্ক সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের উদ্যোগ থাকবে। নিয়মিত তৈরি পোশাকের বদলে সিন্থেটিক ও টেকনিক্যাল পোশাক, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং হালকা প্রকৌশল পণ্যের প্রসার বাড়ানোর ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে মন্ত্রণালয়।

তবে এসব বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সনদের শর্ত পূরণকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। চামড়া খাতের পরিবেশগত মানদণ্ড, রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণ সনদ, যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন এবং যুক্তরাজ্যের ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা পণ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানসম্মত উৎপাদন নীতি এবং হালাল পণ্যের মান নিশ্চিত করেই তবে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে টিকে থাকা সম্ভব হবে।