অক্টোবর ৪, ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম
ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার জানিয়েছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ ৩০টি অর্থনীতির একটি হতে যাচ্ছে। রোববার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’-এ দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দক্ষিণ এশিয়া, বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চল এবং সমগ্র ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম গতিশীল অর্থনীতির দেশ।
দেশটি এখন তার উন্নয়ন যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। মাইকেল মিলার বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের বা এলডিসি তালিকা থেকে উত্তরণের বিষয়টি যেমন আছে, তেমনি বাংলাদেশকে রাজনৈতিক রূপান্তরও সামাল দিতে হচ্ছে। একই সঙ্গে জবাবদিহিতামূলক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবিত করা, অর্থনৈতিক চাপ, জলবায়ুগত ঝুঁকি এবং একটি জটিল বাহ্যিক পরিবেশের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
দাতা ও সাহায্যগ্রহীতার দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে গিয়ে এখন ভিন্ন মাত্রার উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে সম্পর্কটি দেখতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এই পটভূমিতে বাংলাদেশকে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বের অংশীদার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা থেকে বাংলাদেশের মসৃণ ও সফল উত্তরণ নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন একসঙ্গে কাজ করতে চায়। ভবিষ্যতে একটি সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বা এফটিএ সম্ভাবনাও তারা পরীক্ষা করে দেখতে চায়।
উত্তরণের আগেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে এ ধরনের প্রস্তাব ইতিহাসে প্রথম ও অনন্য উদ্যোগ। তবে সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ক্ষেত্রে দুই পক্ষের মধ্যে পর্যাপ্ত অভিন্ন ভিত্তি রয়েছে কিনা, তা আগে দেখতে হবে। এ ক্ষেত্রে ভারতের ও ভিয়েতনামের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের চুক্তির উদাহরণ তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত। তিনি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে এ ধরনের চুক্তির সফলতা নির্ভর করবে জবাবদিহিতামূলক প্রতিষ্ঠান, আইনের শাসন, শ্রম অধিকার ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সুশাসনের ওপর। এই বিষয়গুলোই আসল, মোটেও গৌণ নয়।
রাষ্ট্রদূতের মতে, রাজনৈতিক সংস্কারের পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি, সবুজ প্রবৃদ্ধি, আরও বৈচিত্র্যময় রপ্তানি খাত এবং নির্ভরযোগ্য অবকাঠামো প্রয়োজন। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং তরুণদের জন্য অর্থবহ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান ও তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ইউরোপীয় মূল্যবোধের সঙ্গে ইউরোপীয় বিনিয়োগের সমন্বয় ঘটিয়ে প্রযুক্তি, মানদণ্ড, দীর্ঘমেয়াদি মূলধন ও উদ্ভাবন নিয়ে আসতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন। চট্টগ্রামের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল এবং গ্রিন বন্ড ইস্যুর মতো উদ্যোগের কথা উদাহরণ হিসেবে টানেন মাইকেল মিলার। তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রস্তাবের বড় একটি মূল্য সংযোজন হলো সরকারি প্রশাসন সংস্কারের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা।
ইউরোপের বিভিন্ন দেশের একনায়কতন্ত্র বা স্বৈরশাসন থেকে গণতন্ত্রে উত্তরণের অভিজ্ঞতা রয়েছে। রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজকে নতুনভাবে সংগঠিত করার সেই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
বাংলাদেশ যেন বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সামলে এগিয়ে যেতে পারে এবং একই সঙ্গে উন্মুক্ত, সার্বভৌম, সহনশীল ও সংযুক্ত থাকতে পারে—সেই লক্ষ্যেই এসব প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন