নভেম্বর ১, ২০২৬, ০৩:২০ পিএম
ইতালিতে সামরিক ব্যয় কমিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আবাসন খাতে সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং মজুরি বাড়ানোর দাবিতে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ও ধর্মঘট পালন করেছেন শ্রমিক ও শিক্ষার্থীরা।
রাজধানী রোমসহ দেশটির ৬০টিরও বেশি শহরে ছড়িয়ে পড়া এই গণবিক্ষোভে কৃষক, ট্যাক্সিচালক, ট্রাকচালক ও আবাসন অধিকারকর্মীরা অংশ নিয়েছেন। তৃণমূল শ্রমিক সংগঠন ইউনিওনে সিনদাকালে দি বেসে (ইউএসবি)-এর ডাকে ২৪ ঘণ্টার সাধারণ ধর্মঘটের মাধ্যমে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষা ও আবাসনের উন্নয়ন এবং সামরিক অস্ত্র কেনাকাটা কমিয়ে জনকল্যাণে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মানুষের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন হিসাব পাওয়া গেছে।
ধর্মঘটের আহ্বায়ক সংগঠন ইউএসবি জানিয়েছে, সারা দেশে ১০ লাখ থেকে ১৫ লাখ মানুষ এই কর্মসূচিতে শামিল হয়েছেন। শিক্ষার্থীদের সংগঠন ওএসএ এই সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ বলে দাবি করেছে। তবে ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরকারি হিসাবে অংশ নেওয়া মানুষের সংখ্যা ২ লাখ ৫৫ হাজার। রাজধানী রোমে এক লাখ মানুষ সমবেত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আয়োজকরা।
ইতালিতে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির তুলনায় সাধারণ মানুষের আয় বাড়েনি বলে অভিযোগ আন্দোলনকারীদের। তথ্যমতে, দেশটিতে বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার ৫ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছেছে এবং গত পাঁচ বছরে একটি সাধারণ সুপারমার্কেটের পণ্যের ঝুড়ির দাম বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। আইনগতভাবে কোনো জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারিত না থাকায় সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ তীব্র আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন।
রোমে শিক্ষার্থীদের একটি কক্ষের মাসিক ভাড়া ৮০০ থেকে ৯০০ ইউরো পর্যন্ত উঠেছে। মিলানে তা পৌঁছেছে ১ হাজার ২০০ ইউরো পর্যন্ত। এই আবাসনসংকটের প্রতিবাদে রোমের সাপিয়েনজা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রাচীন কলোসিয়ামের কাছে তাঁবু টানিয়ে অবস্থান নেন।
এদিকে অস্ত্র কেনা ও যুদ্ধ প্রস্তুতির পেছনে সরকারি অর্থ ব্যয়ের তীব্র বিরোধিতা করেছেন আন্দোলনকারীরা। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে অস্ত্র পরিবহনের কাজে ইতালির সমুদ্রবন্দরগুলো ব্যবহারের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছেন তারা। আন্তর্জাতিক বন্দরশ্রমিকদের কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেনোয়া বন্দরে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ সমবেত হয়ে অস্ত্র ও গোলাবারুদবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধের দাবি জানান।
বেশিরভাগ এলাকায় কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকলেও রোম ও তুরিনসহ কয়েকটি শহরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে।
রোমে কলোসিয়ামের কাছে ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা এবং ময়লার পাত্রে আগুন দেওয়ার পর পুলিশ জলকামান নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ঘটনায় আটজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তুরিনে প্রিফেকচার ভবনের নিরাপত্তা বেষ্টনীর সামনে বিক্ষোভকারীদের ওপর জলকামান ও লাঠিচার্জ করা হয়। ভেনিসের নিকটবর্তী মেস্ত্রে শহরে সংঘর্ষে সাতজন পুলিশ সদস্য এবং ভিসেনজায় সড়ক অবরোধের চেষ্টাকালে পুলিশ ও বিক্ষোভকারী মিলিয়ে ১০ জন আহত হন। মিলানের রিং রোডে মিছিলের কারণে প্রায় দেড় ঘণ্টা যান চলাচল ব্যাহত হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও পিয়ানতেদোসি আগেই নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সহিংসতা এড়াতে এবং জনসমাবেশ নিয়ন্ত্রণে সরকার অপ্রাপ্তবয়স্কদের আটক সংক্রান্ত বিধিতে পরিবর্তন আনা ছাড়াও মিলানে অতিরিক্ত ৫০০ সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির চাপ সামাল দিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, জেলে ও ট্রাকচালকদের জন্য সরকার ১৭ কোটি ৫২ লাখ ইউরোর সহায়তা তহবিল অনুমোদন করেছে। এছাড়া আগামী ২০২৭ সালের বাজেটের খসড়ায় ৩০ বছরের কম বয়সী কর্মীদের জন্য বছরে ২ হাজার ৫০০ ইউরো আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি জানিয়েছেন, তরুণদের জন্য নেওয়া পদক্ষেপগুলো ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে, তবে সহিংসতাকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন