রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬,

যুবসমাজ দেশের প্রধান চালিকাশক্তি, তাদের হাতেই উৎপাদন নিশ্চিতের তাগিদ: রাষ্ট্রপতি

জাতীয় ডেস্ক

নভেম্বর ১, ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম

যুবসমাজ দেশের প্রধান চালিকাশক্তি, তাদের হাতেই উৎপাদন নিশ্চিতের তাগিদ: রাষ্ট্রপতি

যুবসমাজকে দেশের সবচেয়ে বড় মানবসম্পদ ও প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের দ্রুত উৎপাদনের মূল ধারায় সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার (১ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি স্পষ্ট করেন যে কেবল রাজনৈতিক পটপরিবর্তন একটি জাতির টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারে না।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে তরুণদের হাতে উৎপাদনের চালিকাশক্তি তুলে দিতে হবে। দেশে একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে দীর্ঘ সংগ্রাম করতে হয়েছে। এখন মূল লড়াই দেশকে নতুন করে গড়ে তোলার।

অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসার সময় জাতীয় সংসদ ভবন ও ক্রিসেন্ট পার্ক এলাকার স্মৃতিচারণা করেন তিনি। ১৯৭৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে দেশে প্রথম যুব কনভেনশন আয়োজন এবং পরবর্তীতে যুব মন্ত্রণালয়, যুব অধিদপ্তর ও যুব কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান তিনি। একই সাথে দেশের তরুণ ও যুব নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিটি জেলায় যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন তিনি।

জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশ তরুণ হওয়ায় বাংলাদেশ বর্তমানে জনমিতিক লভ্যাংশের সুবর্ণ সময় পার করছে।

এই সুযোগ কাজে লাগানোর তাগিদ দিয়ে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের জন্য বাংলাদেশকে আরও তিন বছর প্রস্তুতির সময় দেওয়া হয়েছে। একটি পূর্ণাঙ্গ উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে রূপান্তর নিশ্চিত করতে অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই, যার প্রধান কারিগর এই তরুণ প্রজন্ম।

তিনি জানান, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তরুণ সমাজকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ‍‍`সবার আগে বাংলাদেশ এবং সবার জন্য বাংলাদেশ‍‍` অঙ্গীকারকে ধারণ করে রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক মুক্তির লড়াইয়ে যুবসমাজকেই নেতৃত্ব দিতে হবে।

অনুষ্ঠানস্থলে বিভিন্ন উদ্যোক্তা স্টল পরিদর্শন করে নিজের আনন্দের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। স্বল্প মূলধন দিয়ে শুরু করে নারী উদ্যোক্তাদের মিষ্টি ও খাদ্যদ্রব্য তৈরি করে স্বাবলম্বী হওয়া এবং নিজেদের সন্তানদের বিদেশে উচ্চশিক্ষায় পাঠানোর সাফল্য দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।

তবে দেশের তৃণমূলের শিক্ষিত তরুণদের তীব্র বেকারত্ব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, নিজের নির্বাচনী এলাকায় গেলে দেখা যায় অধিকাংশ তরুণ কর্মহীন। এমনকি একটি ক্লিনারের সাধারণ চাকরির জন্যও স্নাতকোত্তর ও সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত ডিগ্রিধারীরা ভিড় করছেন, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এই সংকট মোকাবিলায় যুব অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ ও সহজ শর্তে ঋণ বিতরণ কার্যক্রমকে প্রান্তিক পর্যায়ে সম্প্রসারণের তাগিদ দেন তিনি।

তিনি বলেন, বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি তৃণমূলের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কাছে সহজ শর্তে জামানতবিহীন ঋণ পৌঁছাতে হবে।

দেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, দীর্ঘ গণসংগ্রামের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শক্তিকে বিতাড়িত করে একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরির সুযোগ এসেছে। নবনির্বাচিত সংসদ ও নির্বাচনকে ঘিরে সবাইকে এখন সংসদকেন্দ্রিক রাজনীতিতে মনোযোগী হতে হবে এবং সব জাতীয় সংকটের সমাধান সংসদ থেকেই বের করতে হবে।

একই সঙ্গে দেশের প্রচলিত সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা তুলে ধরে তিনি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ওপর জোর দেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, পরিবার জমিজমা বিক্রি করে সন্তানদের উচ্চশিক্ষা দিচ্ছে, কিন্তু কর্মক্ষেত্রের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য না থাকায় তারা ডিগ্রি নিয়েও বেকার থাকছেন। দেশে টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের সংখ্যা দ্রুত বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ শ্রমিক পাঠানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধু অদক্ষ শ্রমিক না পাঠিয়ে প্রশিক্ষিত ও শিক্ষিত জনবল বিদেশে পাঠাতে পারলে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। তিনি বলেন, বাঙালি কখনো হতাশায় ভেঙে পড়ার জাতি নয়; ইতিহাসজুড়ে সংগ্রামের মধ্য দিয়েই জাতি হিসেবে আমরা নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছি।