নভেম্বর ১, ২০২৬, ০৭:৫৬ পিএম
পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির আন্দোলনের আড়ালে যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ঘটিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, পোশাকশ্রমিকদের অধিকার আদায়ের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে এই অশুভ তৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা।
রিজভী উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার ও সংকট সমাধানের উদ্যোগগুলোকে পাশ কাটিয়ে দেশকে চরম বিশৃঙ্খলার মুখে ঠেলে দেওয়ার সুপরিকল্পিত চক্রান্ত চলছে। রাজপথে যানবাহনে ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনায় যাদের হাতেনাতে আটক করা হচ্ছে, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে তারা ক্ষমতাচ্যুত পরাজিত শক্তির সহযোগী ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সক্রিয় সদস্য। একদিকে বিতাড়িত পুরনো শক্তি এবং অন্যদিকে মাঠে নেমেছে নতুন আরেকটি মহল।
তবে সব ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে দেশের গণতান্ত্রিক শক্তি ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বক্তব্যে বিরোধী শিবিরের কঠোর সমালোচনা করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির অতীত ইতিহাস মূলত আত্মসমর্পণের ইতিহাস এবং স্বৈরাচারী শক্তির সঙ্গে আঁতাত গড়ার ইতিহাস।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এক দফা আন্দোলন কিংবা রাজপথ এককভাবে দখলের হুমকি দিয়ে বিএনপিকে দমিয়ে রাখা যাবে না, এমন পরিস্থিতিতে দলের নেতাকর্মীরা কখনোই হাত গুটিয়ে ঘরে বসে থাকবে না।
গণভোটের মাধ্যমে পাওয়া গণরায়ের বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে লংমার্চের মতো উত্তেজনাকর কর্মসূচি পরিহার করে দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণ প্রদর্শনের আহ্বান জানান রিজভী। তিনি রাজপথের সংঘাতমূলক কর্মসূচি বাদ দিয়ে আলোচনার টেবিলে বসে গঠনমূলক রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরির জন্য বিরোধী পক্ষগুলোর প্রতি জোরালো তাগিদ দেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন