অক্টোবর ৩১, ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম
ব্যাটিং ও বোলিং ব্যর্থতায় শান্তর আক্ষেপ প্রকাশ করে ঢাকা টেস্টে হারের মূল কারণ হিসেবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণহীন পারফরম্যান্সকে দায়ী করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
নিজেদের অনুকূল কন্ডিশন তৈরি করেও সিরিজের প্রথম টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে পরাস্ত হয়েছে লাল-সবুজ দল। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার দৌড় টিকিয়ে রাখতে যেখানে মিরপুর টেস্ট জয় করা অত্যন্ত অপরিহার্য ছিল, সেখানে ঘরের মাঠে দৃশ্যমান সুযোগ হাতছাড়া করল টাইগাররা। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসে শান্তর কণ্ঠে দলের সমন্বিত ব্যর্থতা নিয়ে গভীর হতাশা ঝরে পড়ে।
প্রথম ইনিংসে মূল্যবান লিড পেয়েও দ্বিতীয় ইনিংসে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল বাংলাদেশ দল। একপর্যায়ে একশ রানের আগেই গুটিয়ে যাওয়ার মারাত্মক শঙ্কা তৈরি হয়। সেখান থেকে প্রতিরোধ গড়ে দল শেষ পর্যন্ত ১৪২ রানে অলআউট হলে ক্যারিবীয়দের সামনে জয়ের জন্য ১৭০ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায়।
চতুর্থ ইনিংসে এই রান প্রতিহত করার মতো যথেষ্ট ছিল কি না, এমন প্রশ্নে অধিনায়ক স্পষ্ট করে বলেন, ১৭০ হওয়ার পরে আমাদের বিশ্বাস ছিল এই রান ডিফেন্ড করা সম্ভব। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ওটা হয়নি। ওদেরকে কৃতিত্ব দিতে হবে। কিন্তু আমরা এই উইকেটে আরেকটু ভালো বল করতে পারতাম। আমরা খুব বেশি ভালো বল করিনি।
বিশেষ করে দ্বিতীয় ইনিংসে স্পিনারদের ভূমিকা ছিল একেবারেই মলিন। যেখানে মিরপুরের উইকেটে সফরকারী স্পিনাররা ৯টি উইকেট শিকার করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছেন, সেখানে দ্বিতীয় ইনিংসে তাইজুল ইসলাম বা মেহেদী হাসান মিরাজরা একটি উইকেটও আদায় করতে পারেননি। পুরো ইনিংসে কেবল দুটি উইকেট শিকার করতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ।
বোলিংয়ের এই নিয়ন্ত্রণহীনতা নিয়ে অধিনায়ক বলেন, লেংথটা আমরা ভালোভাবে পিক করতে পারিনি। একটু এলোমেলো ছিল। অন্যথায় এত সহজে ম্যাচ শেষ হতো না। বিশেষ করে চতুর্থ ইনিংসে আমরা ওদের মাত্র দুই উইকেট নিতে পেরেছি। ম্যাচ হারলেও অন্তত ৭-৮টা উইকেট নিতে পারলে বুঝতে পারতাম যে রানের ঘাটতি ছিল। আমার মনে হয় বোলিং কিছুটা এলোমেলো ছিল।
তবে এই ইনিংসে ভাগ্যও পুরোপুরি পাশে পায়নি টাইগাররা। ফিল্ড আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের কারণে অন্তত পাঁচবার আম্পায়ার্স কলে প্রতিপক্ষ ব্যাটাররা বেঁচে যান।
এই পরিস্থিতিকে দুর্ভাগ্যজনক মনে করলেও একে পরাজয়ের অজুহাত বানাতে নারাজ অধিনায়ক। তিনি বলেন, যখন ১৭০ রান টার্গেট হয়, তখন পাঁচটা আম্পায়ার্স কলের মধ্যে অন্তত তিনটা অনুকূলে আসা দরকার ছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেটি হয়নি। এটা ক্রিকেটের অংশ, এতে আম্পায়ারকে দোষও দেওয়া যায় না। ধরে নিতে হবে আমাদের ভাগ্যে ছিল না। শুরুতে সিদ্ধান্ত পেলে হয়তো মোমেন্টাম ভিন্ন হতো, তবে এসব কোনো অজুহাত নয়।
এই পরাজয়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার সমীকরণ এখন ভীষণ জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। শান্ত তা অকপটে স্বীকার করে বলেন, সত্যি বলতে ফাইনালে যাওয়ার পথ এখন একটু কঠিন হয়ে গেল। তবে আমি প্রথম সংবাদ সম্মেলনেও বলেছি, আমরা ম্যাচ ধরে এগোতে চাই। এই টেস্টে আমরা নিজেদের সেরাটা দিতে পারিনি। এখন দ্বিতীয় টেস্টে কীভাবে ঘুরে দাঁড়ানো যায়, সেদিকেই নজর দিচ্ছি।
সিরিজ শুরুর মাত্র এক সপ্তাহ আগে একাধিক ক্রিকেটার সংযুক্ত আরব আমিরাতে সংক্ষিপ্ত সংস্করণের ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলে ফিরেছেন। এতে সাদা পোশাকের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি হয়েছিল কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে শান্ত জানান, তার মতে প্রস্তুতি যথেষ্ট ছিল। এক সংস্করণের প্রস্তুতি ভালো হলে অন্যটিতে কিছুটা ভিন্নতা থাকা অস্বাভাবিক নয়, তবে দলের প্রতিটি ক্রিকেটার নিজেদের ঘাটতি পূরণে সচেতন থেকেই মাঠে নেমেছিলেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন